শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আলের গল্প ৬

একটা গাছ। একটা বট গাছ। যার অর্ধেক এপারে, অর্ধেক ওপারে। তার কোন দেশ নেই, কোন ধর্ম নেই। কিন্তু তাকে কেটে ফেলার হুকুম এসেছে। এ গল্প জীবন দিয়ে অনুভব করার। বর্ডারের আলের উপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা মানুষের ভিতর এমন বটগাছ আছে, যার কোন দেশ নেই। ভারত - বাংলাদেশ বর্ডার। ঠিক সীমানা বা আলের উপর দাঁড়িয়ে আছে একটি বটগাছ। কাঁটাতার গেছে তার গা ঘেঁষে। এই গাছের নিচে একসময় হাট বসতো। এপারের মানুষ, ওপারের মানুষ, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই সে হাটে আসতো। সবজির পশরা সাজিয়ে বসতো এপার ওপার ভাগ না হওয়া মানুষেরা। রাম রহিম সবাই। তারপর একদিন হঠাৎ দেশ ভাগ হয়ে গেল। মাঝখানে আল পড়ে গেল, দেশভাগের আল। মানুষ ভাগ হয়ে গেল, হাট ভেঙে গেল। কিন্তু বটগাছ রয়ে গেল, ঠিক আলের ওপর। একদিন সীমান্তরক্ষী এলো। হুকুম হলো, গাছটি কাটতে হবে। কারণ তার ডালপালা ওপারে চলে গেছে। এটা দেশের নিরাপত্তার জন্যে বিপদজনক। খবর শুনে দুই পারের মানুষ এলো। যাঁদের জন্ম এই গাছের ছায়ায় ছায়ায়, তাঁদের একজন বললো - এই গাছের নিচে আমার ঠাকুরদা আমাকে প্রথম হাঁটতে শিখিয়েছিল। আরেকজন,ওপারের দাদি বললো - আমি থাকতাম.... ওই যে তালগাছটা... তার পাশে। আমার বিয়ে হয়েছিল এই গাছের নিচে। তাঁদের দুইজনের কাছে কোন দলিল নেই। দুই জনের চোখে জল, দুইজনের যন্ত্রণা এক। কারণ দুইজনেই জানে, ওই গাছ তাঁদের শেষ আল। যে আল ইচ্ছে করলেই টপকাতে পারেনা। তাঁরা কেউ দেশভাগ চায়নি, তাঁরা শুধু একটু ছায়া চেয়েছিল, শান্তি চেয়েছিল। আমরা আল দিয়েছি মনে, আল দিয়েছি মাঠে, আল দিয়েছি মানচিত্রে। কিন্তু একটা বটগাছকে আল শেখাতে পারিনি। সে আজও জানেনা কোনটা ভারত কোনটা বাংলাদেশ। সে শুধু জানে তার শিকড় মাটিতে আর তার ছায়া মানুষের জন্য। আমাদের চারপাশেও এমন অনেক গাছ আছে। সম্পর্কের গাছ, বন্ধুত্বের গাছ, ভালোবাসার গাছ - যাদের আমরা নিজেরাই কাঁটাতার দিয়ে ভাগ করে রাখি। #goutamaalee

রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

Kobir golpo কবির কথা

কবির গল্প সম্পাদক মশায় তাড়া দিচ্ছেন গল্প দিতে হবে। গল্প কি হাটে মাঠে জোটে যে চাইলেই ধরে দেব। হাটে মাঠে বলতে গিয়ে ভূষণ্ডীর মাঠের কথা মনে এলো। তাহলে একটা ভূতের গল্প লিখে ফেলি। ভূতের কথায় জটার চেহারা ভেসে ওঠে। তার মাথায় জট ছিলনা তবে হঠাৎ দেখলে মনে হতো জট আছে। এক মাথা চুল। কখনও চিরুনি পড়েছে বলে মনে হয় না। ওকে ওই রকমই দেখতে অভ্যস্ত। জটার স্কুল বয়স কিন্তু স্কুলে যায় না, কখনও যেতেও দেখিনি। ওর বাবা কাজ পেলে কাজ করে। কাজ পেল কিনা সেটা রাতে বোঝা যায়। একটু টলতে টলতে ঘরে ঢোকে। চিৎকার চেঁচামেচি করে না। ভারি শান্ত। জটার মা লোকের বাড়ি কাজ করে। আমি স্কুল ছেড়ে কলেজে। বিশ্বকবির দু চারটে কবিতা পড়ে কবি হবার স্বপ্ন দেখছি। খাতায় লিখে ফেলছি মাঝে মাঝে। দু একটা পত্রিকায় পাঠাই, কেউ ছাপে না। অবশেষে নিজেই পত্রিকা প্রকাশ করলাম। দেয়াল পত্রিকা। পাড়ার দোকানের সামনে টাঙালাম যাতে লোকের চোখে পড়ে। একদিন জটা এলো আমার কাছে। মিনমিন করে বললো - আমার কবিতা ছাপাবা ? আমার অবাক হবার পালা - তুই কবিতা লিখিস? সে বললো - নেবা ? বললাম - এনেছিস ? দে আমাকে। হাফ প্যান্টের পকেট থেকে ময়লা, ছেঁড়া ভাজ করা কাগজ দিল আমার কাছে। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। বললাম - ঠিক আছে, আগে দেখি কি লিখেছিস। পরের সংখ্যায় জটার কবিতা প্রকাশ হোল। আমার মুখস্ত নেই সে লেখা তবে বিষয় মনে আছে। " আমি দুইবেলা খাতি পাইনা। খিদা পালি জল খাই। আমার এট্টা মাত্তর জামা। বাবা জামা কিনা দেয় না। " তারপর সব সংখ্যায় তার লেখা থাকতো। জটা কবি হোল। কলেজ শেষ করে একটা চাকরি পেলাম। নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেল। বছর দশেক পর কবির সাথে দেখা। চুলের বাহার এরকমই। দাড়ি গোঁফ মুখে। বললাম - কি করিস এখন ? বললো - বিয়ে করেছি। আমি বললাম - ভাল খবর। তা কাজ বাজ কি করিস ? সে বললো - কিছু না। অবাক হলাম - মানে ? আয় করিসনা তাহলে বিয়ে করলি কেন ? অকপটে বললো - বারে, আমি কি করবো? বন্ধুরা জোর করে বন্ধ কারখানার কালী থানে নিয়ে বিয়ে দিয়ে দিল। জোর করলো আর তুই বিয়ে করে নিলি ? খাওয়াবি কি ? সে বললো - মেয়েটার মা নাই, বাবা আবার বিয়ে করিছে। খাতি দেয়না। খালি মারে। আর আমার বন্ধুরা বেশি ভাল না, মদ খায়, গাঁজা খায়। তাগে সাথে মিশে মিশে মেয়েটাও খারাপ হয়ে যাতিছেলো। আর জম্ম মিত্যু বিয়া সব ভগমানের ইচ্ছায় হয়। সিনি যদি বিয়ে দিতি পারেন তবে খাবারের জোগাড় সিনিই করবেন। কবি এখন আর কবিতা লেখে না। মাঝে মাঝে বাড়ি আসি। কবির সাথে খুব কম দেখা হয়। বয়সের থেকে বেশি বয়স্ক মনে হয় তাঁকে। মাথা ভর্তি কাঁচাপাকা চুল, মুখে দাড়ি। ওর বউকে প্রায়শই রাস্তায় দেখি। রোগা পাতলা। অগোছালো জীবন। জানিনা ওদের ভগমান কিভাবে রেখেছে। একদিন রাতের খবরে কবিকে দেখলাম। অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আপাতত জেল হাজত। পরের দিন বাংলার বহুল প্রচলিত দৈনিকে ছবিসহ খবর দেখলাম। পাড়ার ওর বয়সী এক জনের কাছে খোঁজ নিলাম। আবার অবাক হলাম। অস্ত্র পাচার করা কবির পেশা। ছেলেটি আমাকে উদ্বিগ্ন দেখে আশ্বস্ত করলো ধীর ভাবে বললো - আপনি চিন্তা করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি ছাড়া পেয়ে যাবে। বড়জোর তিন চার মাস। জানতে চাইলাম - কি ভাবে ছাড়া পাবে ? কে ওর জন্যে কোর্টে লড়বে? ছেলেটি আমার জ্ঞান দেখে হাসলো - যাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনে এবং যাদের কাছে বিক্রি করে তারাই ওর জামিনের ব্যবস্থা করবে, তারাই মামলা লড়বে। কারণ জটা খুব বিশ্বস্ত মানুষ। আবার জিজ্ঞেস করলাম - সে যখন জেলে থাকে তার স্ত্রীর কিভাবে চলে ? ছেলেটি বললো - দেখুন সমাজের অন্ধকার জগতের বাসিন্দারা যতই গুন্ডামি বা অসৎ কাজ করুক তারা অকৃতজ্ঞ নয়, বিশ্বস্ততার দাম দেয়। তাই সে যতদিন জেলে থাকবে তার পরিবার ঠিক বেঁচে থাকবে। আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত হলাম। যদিও তার বিপদে আমি কখনও এগিয়ে যেতাম না। দায়সারা দায়িত্ব। অবসর নেওয়ার পর বাড়িতে সময় কাটে। পাড়ার ভাল মন্দে কখনোই নিজেকে জড়াই নি, এখনো দূরত্ব রেখে চলি। কিন্তু আগের থেকে বেশি খবর পাই। মাঝে মাঝে কবির কথা মনে পড়ে। কিন্তু খোঁজ নেয়া হয় না। আমাদের পাড়ায় অনেকগুলি কুকুর আছে। মনে হয় সব পাড়ায় ওদের দখলদারী। একটু ব্যতিক্রম আছে। আমার পাশের বাড়ির বাসিন্দা পথের কুকুরের শুভাকাঙ্ক্ষী। তার বাড়িতে চোদ্দটা কুকুর বাস করে। এছাড়া রাস্তার কুকুরদের খাবার যোগান দেয়। তাদের দেখভাল করার জন্য দুইজন মানুষ সবেতনে কাজ করে। শুনেছি কোন সংস্থা থেকে অনুদান পায়। একদিন দেখা হলো কবির সাথে। পাশের বাড়ির গেটে দুটো ব্যাগ ঝুলিয়ে চলে যাচ্ছিল। জিজ্ঞেস করলাম - কেমন আছিস ? উত্তর - ভগমান যেমন রেখেছে। ওর ভগমান কেমন রেখেছে সেটা জানতে পারলাম পাড়ার সেই ছেলেটার কাছে। সেই ছেলেটা বললো - জটা এখন অস্ত্র পাচার কমিয়ে দিয়েছে কারণ বাজার মন্দা। প্রশ্ন করলাম - তাহলে ওর সংসার চলে কিকরে? উত্তর পেলাম - বাড়ির আশে পাশে কয়েকটা কুকুর আছে। আপনার পাশের বাড়ির থেকে দুইবেলা কুকুরদের জন্য খাবার আনে। সেই খাবারে স্বামী স্ত্রীর খাবারের জোগাড় হয়ে যায়। কবির ভগমানকে আমি মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানাই। এক মাথা পাকা চুল ও মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে মাথা নিচু করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ভূষণ্ডির মাঠে হেঁটে চলে ভূত। তাঁর জীবনে কবিতা ফুরিয়ে গেছে। ১৫/০৮/২০২৬

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

বর্ষা

শান্ত সকাল। কি সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে। অঝরে। যারা কুম্ভকর্ণ কে হিংসে করে তারা এখন আরাম ঘুমে। গরমের উসখুস নেই। নেই ঠান্ডার দাঁত চাপা শাসন। যারা কাজের চাপে চাপা পড়ে আছে, জল ছপছপ পায়ে হেঁটে চলেছে। এই ভোর তো পাখিদের, কিচিরমিচির ডাক নেই। বহুকাল শোনেনি এমন নির্ঝরের গান তাই বুঝি আত্মমগ্ন তারা। লতা পাতা গাছেরা আনন্দে উচ্ছ্বল আজ অনাবিল আনন্দে আত্মহারা, ছোটবেলা জেগেছে ঘাসডোবা জলে দলবেঁধে হুল্লোড়, কোন বারণ নেই ফুলেরা ফোটাজলের ঝুমকো পড়বে বলে অপেক্ষায়। কালিদাস হলে একটা চিঠি পাঠাতাম জুলেখা সুলেখা বনলতাদের কাছে এখনও মনের গহনে গহনে আছে ওদের লুকোচুরি এখনও বৃষ্টির স্বর ভিজে যায় কান্নায় এখনও যক্ষ সীমানা পেরোবার পদচারণা করে। ৪/৮/২৬ সকাল

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

তসলিমা নাসরিন কি এক বিপদের নাম ?

এক অসাম্প্রদায়িক তথা নাস্তিক মানুষ বিতাড়িত হোল সাম্যবাদী তথা কমিউনিস্ট সরকার দ্বারা। এক সাম্প্রদায়িক সরকার সেই অসাম্প্রদায়িক মানুষটিকে আবার রাজ্যে ফিরিয়ে আনলো। তবে কি সাম্যবাদী সরকারই আসলে সাম্প্রদায়িক? আর সাম্প্রদায়িক সরকার আসলে সাম্যবাদী ? তখন যা চেয়েছিলাম তা পাইনি। এখন যা ভাবিনি তাই পাচ্ছি ! ঘটনার মূলে ছিল তসলিমা নাসরিনের উপন্যাস, লজ্জা। লজ্জা - বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এক বাস্তবতা। লেখক তাঁর দেশের কথা, সমাজের কথা লিখেছেন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে, অন্য নাগরিকের উপর সংগঠিত অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, দেশের মানুষকে মানবতার বন্ধনের কথা বলেছেন। অন্য দেশের মানুষ সেটাকে কিভাবে দেখবে তা লেখকের বিষয় নয়। সাম্প্রদায়িক শক্তি কোথা থেকে কিভাবে তার রসদ জোগাড় করবে সেটা লেখকের কর্তব্যে বাধা হতে পারে না। লজ্জার জন্য তিনি স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, তাতে স্বদেশের লজ্জা কমেনি বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে - যা আজ মহীরূহ হয়ে দেখা দিয়েছে। সেই কুড়ি বছর আগে যদি সেদেশের সরকার বিষয়টিকে দেশের লজ্জা হিসেবে দেখতো, যথাযথ ব্যবস্থা নিত তবে আজ সেদেশের নেত্রীকে অন্যদেশে পালাতে হতো না। বাংলার কমিউনিস্ট সরকার লজ্জাকে যদি সাম্প্রদায়িক মোড়কে না দেখতো, তবে বিভেদকামীদের এতো বাড়বাড়ন্ত হয়তো হতো না। জনপ্রিয়তার সস্তা তাস খেলতে গিয়ে তারাও আজ গাড্ডায় পড়েছে। সেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না। তৎকালীন সাম্যবাদী সরকার লজ্জার মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পায়নি। দেশভাগে সংখ্যালঘু হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রিস্টানদের যন্ত্রণা তাঁরা কখনোই অনুধাবন করতে চায়নি, করতে পারেনি। যদি অনুধাবন করতে বা ভবিষ্যত্ দেখতে পারতো তবে বাংলাভাগের সহায়ক হতো না। তাঁরা বাংলার কথা ভাবতো না, বাঙালি সত্ত্বার কথা ভাবতনা। ক্ষমতার লিকলিকে লালসায় জনসংঘের শ্যামাপ্রসাদ থেকে কোন অংশে কম ছিলনা। সমগ্র তথা অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম ও তপশীলিদের টপকে তাঁরা অর্থাৎ তথাকথিত উচ্চজাতির সমাজপতিরা কখনোই বাংলার শাসক হতে পারতনা। সেই ভাবনায় কংগ্রেস - জনসংঘ - কমিউনিস্টরা এক সারিতে ছিল। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের শরৎ চন্দ্র বসু। শিকড়ছেঁড়া মানুষের যন্ত্রণা বুঝতোনা বলেই মরিচঝাপির নৃশংস পরিণতি ঘটাতে পেরেছিল। তাঁদের লজ্জার ইতিহাস বাঙালী জাতির জীবনে এক চরম পাওনা। আমি অবাক হয়েছিলাম তসলিমা নাসরিনকে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। মৃত সন্তানের পাশে বসে মা যেমন ভাবে - এই বুঝি আমার বাছা চোখ মেলে তাকাবে - তেমনি আমিও ভাবতাম প্রিয় বামপন্থী সরকার তসলিমাকে ঘরে ফিরিয়ে আনবে। সেটা আর কখনও ঘটেনি। মমতার প্রতি আমার কোন প্রত্যাশা ছিলনা। তবে প্রশ্ন জাগে - বিজেপি সরকার কেন ফিরিয়ে আনছে তসলিমাকে ? বাংলার অসাম্প্রদায়িক ভাবনা তছনছ করে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বালাতে সে কি ক্যাটালিস্ট হিসাবে কাজ করবে ? যে উগ্রবাদী মুসলিমরা তাঁর মাথার দাম ধার্য করেছিল, তারা কি চুপচাপ বসে থাকবে? সরকার সেই বিভেদ কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর কোন উদ্দেশ্য সাধন করবে ? রাজনীতির জটিল অংক আমি বুঝিনা তবে আশঙ্কা হয়। তবে একজন বাংলাভাষী লেখক আবার মাতৃভাষায় স্বাদ নেবে সেটা ভেবে আমি খুশি। বাংলা হোক বাঙালির পীঠস্থান।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

মেঘনাদ

https://www.facebook.com/share/p/1CbqJuT21U/ মহাকাব্য রামায়ণ বা মহাভারত কি আড়াই ঘণ্টার ক্যাপসুলে পোরা সম্ভব? তেমনি একটা চেষ্টা করা হয়েছে বিজ্ঞানী মেঘনাদের মহাকাব্যিক জীবনকে আড়াই ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ করার। বিজ্ঞান ও রাজনীতির মহারথীদের সমাবেশ নাটকের চরিত্রে। বিজ্ঞানী - রাজনীতিবিদ মেঘনাদকে কেন্দ্র করে যাবতীয় কার্যক্রম। ভারতীয় ধর্মীয় সমাজনীতির সমাজবিভাজনের নোংরা পরিবেশে কিভাবে একজন মহান মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত লড়তে লড়তে নিঃস্ব হয়ে যান - সেই আখ্যান। মেঘনাদ নাটক তৈরিতে জড়িয়ে আছেন একাধিক বিজ্ঞানী, একজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে কাহিনী বানাতে যা ছিল অপরিহার্য। কাহিনীর বিন্যাস সময় সারণী অনুসারে হয়নি। শুরু প্রায় শেষ জীবনে, পরক্ষণেই কৈশোরে। আগু পিছু করে নাট্যকার সাজিয়েছেন যা চিন্তার পরিসর সম্বৃদ্ধ করে। স্কুল জীবনে যে কারণে তিনি বঞ্চনার সনদ হিসেবে রাজটিকিট পান - সেই বঞ্চনা সেই রাজ টিকিট সারা জীবন ধরেই পেতে থাকেন। সেই রাজ টিকিট মেঘনাদকে নোবেল পুরস্কার পেতে তীব্র বাঁধার সৃষ্টি করে। পণ্ডিত জহরলাল নেহেরু, হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা, শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর, সি ভি রমন, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ড. মেঘনাদ সাহা- সব ব্যক্তিত্ব এখন ইতিহাস, তবু এটা ঐতিহাসিক নাটক নয় কারণ এই নাটকের একটা চরিত্র এখনো জীবিত। তিনি মেঘনাদের ছোট কন্যা ড.চিত্রা রায় সাহা। এই নাটক আমরা কেন দেখবো ? আমাদের বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। বই পড়ার আগে সংগ্রহ করতে হবে। সে সময় কোথায় ? তাই আড়াই ঘণ্টার ক্যাপসুলে গিলে ফেলা সহজ। অল্পেই পেয়ে যাব মহাকাব্যিক জীবনের স্বাদ। প্রয়োজনে তারপর তথ্য যাচাই করা যাবে। তথ্য যাচাই - এই জন্যে লিখলাম যে বিরতির সময় গুঞ্জন শোনা গেছে, এসব কি সত্যি ? আরও একটা কারণে এই নাটক তাড়াতাড়ি দেখতে বলবো, দেরি করলে দেখার সুযোগ না ও পেতে পারেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কুদৃষ্টিতে পড়ার সম্ভাবনা আছে। নাটক প্রযোজনা করেছে - অশোকনাগর নাট্য আনন। নির্দেশনা ও নামভূমিকায় চন্দন সেন। পরবর্তী নাটক মঞ্চস্থ হবে ৬ জুলাই একাডেমিতে। খোঁজ নিতে পারেন Thirdbell.in

বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

বই পড়া নিয়ে দুকথা

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ছোটবেলায় শুনেছি। ছোটবেলা মেজবেলা হাত ধরাধরি করে চলেছি কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি। বড়বেলায়ও শুনছি ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু যা দেখছি তাতে মিলছে না। কেন মিলছেনা ? ভাসা ভাসা বুদ্ধিজীবীরা যা বলেন তাতে মন তৃপ্তি পায়না। যেমন আরএসএসকে বাইরে থেকে যা বুঝতে পারি তা ওই সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ( Partha chatterjee) বই যা বোঝায় তা আলাদা। তেমনি ইসলাম নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা কি শেখায় তা আমরা বুঝতে পারি না কারণ ভিতরের কথা বলার মানুষ পাইনা। " নাস্তিক ইমামের হজ্ব" - বই সেই অনালোকিত মাদ্রাসা শিক্ষা তথা ইসলামের স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে। ধর্ম মানুষের প্রাণের আরাম। মানুষ সে আরাম যেখানে পাবে সেই ধর্মে বিশ্বাস রাখবে। কিন্তু ইসলামে সেই বিশ্বাসের স্বাধীনতা নেই। ইচ্ছে করলে ইসলাম ত্যাগ করা যাবেনা। নবীর নির্দেশ, ইসলাম যে ত্যাগ করবে বা অবিশ্বাসী হবে তার একটাই পরিণতি - মৃত্যু। একটা উত্তর এই পড়া থেকে জানলাম, ইসলাম বিশ্বাসী মানুষের প্রথম পরিচয় কেন মুসলমান, এমনকি সে যদি কমিউনিস্টও হয়। মক্কা মদিনা যাওয়ার স্বপ্ন কোন বিধর্মী দেখতে পারেনা, সে অধিকার সে রাষ্ট্র দেয়না। সেখানে নির্মোহ বর্ণনা আছে এই বইটিতে। নিখেছেন একজন বাংলাদেশের ইমাম - মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ইসলাম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়েছেন এবং যথারীতি প্রাণের ভয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন। বইয়ের দাম ২৫০/- টাকা। E-mail: aamrasachetan@gmail.com

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

আমাদের পরিবেশ: আমাদের করণীয়

আমরা যারা ধার্মিক, ধর্মগ্রন্থ ( গীতা, বাইবেল, কোরআন...) একবার পড়ে পাশে সরিয়ে রাখি না। বারবার পড়ি, মুখস্ত হয়ে গেলেও পড়ি। তেমনি পরিবেশের কথা সচেতন মানুষেরা বারবার বলেন। কারো কাছে একঘেয়েমি মনে হয়, তবুও বলেন। কারণ সুস্থ পৃথিবীর জন্যে এটা একটা ধর্মপাঠ। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সেই ১৯৭৩ সালে সুজারল্যান্ডে শ্লোগান উঠেছিল - Only one Earth. প্রাণময় সেই একমাত্র পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে স্বাভাবিক পরিবেশে রাখতে হবে, নাহলে সেও একদিন প্রাণহীন হয়ে যাবে। আর সেই পৃথিবীর ভাগ্য বিধাতা কোটি কোটি প্রাণীর মধ্যে একটি মাত্র প্রাণী - সে মানুষ(homo sapiens)। সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হবে সবচেয়ে সুন্দর পৃথিবীর হত্যাকারী! এই দিন বছরে একবার আসে। কিন্তু একবার করে বা বকে পরিবেশ সচেতন মানুষের কাজ শেষ হয়না। প্রতিনিয়ত সুস্থ থাকার জন্য আমরা যে কাজগুলি করি, সুস্থ পরিবেশের জন্যেও তেমনি কিছু কাজ আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। ১। গাছ: সুযোগ পেলে গাছ লাগাতে হবে। নিজের জমিতে বা পতিত জমিতে। আমরা বাড়িতে বা পথে যেতে যেতে নানা ফল খাই। একটু সচেতন ভাবে সেই ফলের বীজ ফাঁকা জায়গায় ফেলতে হবে। হয়তো সবার অজান্তে সেই ফল থেকে গাছ হবে, পৃথিবী একটু সবুজ হবে। ২। পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে : যাঁদের মোটরসাইকেল আছে তাঁরা একদম হাটায় অভ্যস্ত নয়। একটু দূরে হলে তো একদম খোড়া। এই অভ্যাস পাল্টাতে হবে নিজে ভাল থাকার জন্য এবং পরিবেশ ভাল রাখার জন্য। কাছেপিঠে হলে পায়ে হেঁটে যান। একটু দূরে হলে সাইকেল চালিয়ে যান। দুই বা চার চাকার গ্যাস চালিত বাহন পরিহার করুন। এটা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। ৩। খাবার : অতিরিক্ত খাবার ফেলে দেবেন না। খাবার পঁচে পরিবেশ দূষণ বাড়ায়। অভাবী মানুষের অভাব নেই আমাদের দেশে, তাঁদের দিন। তাঁরা উপকৃত হবে আবার পরিবেশও সুস্থ থাকবে। ৪। জৈব সার : বাতিল শাকসব্জি লতা পাতা বাড়িতে বা জমিতে গর্ত করে ফেলুন। গর্তের মুখ চাপা দিয়ে রাখুন যাতে দূষণ না হয়। ইকোসিস্টেম অনুসারে এগুলি সারে রূপান্তরিত হবে যা মাটিকে উর্বর করবে। ৫। কীটনাশক : চাষে, গাছে কীটনাশক ব্যবহার করার আগে ভাবুন। কীটনাশক শুধু পোকামাকড় মারেনা পাখী ও অন্যান্য প্রাণী মেরে ফেলে। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে দেয় যা পরিবেশের ভারসাম্য তথা সুস্থতা নষ্ট করে। পরিবেশ বান্ধব ওষুধ ব্যবহার করুন। ৬। প্লাস্টিক : সচেতন ভাবে প্লাস্টিকের দ্রব্য যেমন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কাগজ, কাপড় বা বাঁশের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা যায় যা পচনশীল। ৭। গাড়ি : জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে গাড়ির ব্যবহারও তত বেড়েছে। গাড়ি প্রয়োজনকে ছাড়িয়ে আয়েশের বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক পরিবারে একাধিক গাড়ি এক দেখন দারি হয়ে গেছে। আমরা ভুলে যাই গাড়িতে তেলের ব্যবহার সর্বাধিক, দূষণ ছড়ায়ও সর্বাধিক। অথচ একটু সচেতন হলে পরিবেশের সহায়ক হতে পারি। দূরে বা কাছে যেতে প্রচুর ভাল এসি/নন এসি গাড়ি পাওয়া যায়। এখন তো লোকাল ট্রেনেও এসির ব্যবস্থা আছে। যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই সেখানেই ব্যবহার হোক। কার্বন তথা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে হলে সীমিত পরিসরে গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। ৮। বাগান : গ্রামে যদি বাড়ি হয় প্রত্যেকের কিছু জায়গা জমি থাকে। শহরে বাড়ির পাশে কিছু ফাঁকা জমি না থাকলেও ছাদ থাকে। সেই জায়গায় গাছ লাগাতে পারি, মাটিতে বা টবে। গাছ থাকলে প্রজাপতি মৌমাছি নানা ধরনের পাখি আসে। প্রকৃতির কোলে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়। টাটকা শাক সবজি ফল পাওয়া যায়। আর গাছ আড়ালে দান করে অক্সিজেন, টেনে নেয় বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড। ৯। অপচয়: কত নির্দ্বিধায় আমরা জলের অপচয় করি। জলের কল খুলে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাস্তার কলে জল পড়েই যায়, আমরা দেখেও দেখিনা। অথচ দেশে ভূগর্ভস্থ জল নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ভূবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে যাচ্ছে, মানুষ শুনেও শুনছে না। দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে এখনই জলের হাহাকার। আরেক অপচয় বিদ্যুৎ। বিনা কারণে ঘরে ঘরে বাল্ব বা ফ্যান চলে। বারবার সুইচ অন অফ করতে আমাদের কষ্ট হয় অথবা অবহেলা - কে আর দেখছে, কি আর হবে....। একটু একটু করেই বড় কিছু হয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে সেটা বুঝতে হবে অন্যকে বুঝাতে হবে। জল বা বিদ্যুৎ - দুটোর ক্ষেত্রেই লাগে তেল/গ্যাস, যা নিঃস্বরণ করে গ্রীন হাউস গ্যাস, যা আমাদের সুন্দর পৃথিবীর মারণ বিষ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস সেই অনাগত বিপদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পৃথিবী যদি প্রানশূন্য হয়ে যায় Only one Earth এর Only one Homo Sapiens ও হারিয়ে যাবে, চাঁদে বা মঙ্গলে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখার কেউ থাকবে না। 🌳🌳🌳🌳🌳🌳

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

জল - জীবন

গরম কাঠ ফাটা শব্দকে গৌণ করে দিয়েছে। পাখি শব্দের মানে বোঝেনা, বোঝে জীবন জল জীবন ভেবে ঠোঁট ডুবিয়েছিল, ডুবে গেল নিজে। যেমন মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে পান্থশালা রেল স্টেশন বা তার ধার অনন্তকালের ঠিকানা ভাবে, থাকে নিজের শ্রম বিক্রি করে মানুষের কাছে সেই মানুষ যাঁরা রেলে চড়ে, যেখানে ধনীর পা পড়েনা, ধনীর পকেট উপচে কিছু পড়েনা। ধনীর স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সরকার নড়ে চড়ে হা করে আসে বুলডোজার, গিলে নেয় সব ছোটছোট দোকান, পথশিশুর পাঠশালা মাটির হাঁড়ি মায়ের স্নেহ, ঔদ্ধত্বে শাহেন শাহ। পাখি নিরন্তর হাবুডুবু খায়, যা ছিল জল জীবন।

সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

স্বর্গের খোঁজে

স্বর্গেই ছিলাম সুজলা সুফলা ভাটিয়ালি গান কিচির মিচির পাখির কলতান সকাল সন্ধ্যা ভাইয়ের স্নেহ বোনের আবদার মায়ের আঁচল হাওয়ায় হাওয়ায় ছিল মিলনের বহমান সুর শাসকের ঝটপটানি, উচ্চারিত হোল স্বর্গের লোভ আর অমনি সুজলা সুফলা স্বর্গ দোযখ হয়ে গেল স্বর্গের সিঁড়ি খুঁজতে পেরলাম তেপান্তরের মাঠ সুজলা সুফলা ভাটিয়ালি গান পাখির কলতান বুক ভরে শ্বাস ভাইয়ের বোনের এবং মায়ের আঁচল নতুন মাটিতে বীজ থেকে চারা গজায় নতুন ভাষায় প্রানান্তের আগে আবার শাসকের লোভের ডালি ফাটা ছাদে চুইয়ে পড়া বেহেশ্তের মায়াবী ঈশারা আর অমনি সুজলা সুফলা স্বর্গ নরক হয়ে যায় তেপান্তরের মাঠ আবার ডাকে থরথর পায়ে দিকশুন্য পথে দাঁড়াই ।।

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

শরণার্থী

শরণার্থী পেন্দিদের জন্ম হয়েছিল আবর্জনার মধ্যে তখনও চোখ ফোটেনি, ওর মা সবার অজান্তে জড়ো করেছিল অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ঘরে। বেশ থাকা হলো না, মিহি মিহি ডাক কানে আসতেই সব কটাকে ফেলে দিলাম দেয়ালের ওপারে। কাক আর মদ্দা বেড়ালের কবলে কে যে কোথায় শুধু পেন্দি বেঁচে গেল পালানো জীবনে। আবার দেখলাম বাড়ির আঙিনায় একটু বড় হয়েছে, এক চোখ বন্ধ দূর থেকে তাকায় ভয়ে ভয়ে, কাছে গেলে পালায় হাতের লাঠিকে সে একদম বিশ্বাস করে না। আমি তাকে খাবার দেইনা, তবু সে বেঁচে থাকে আমার আঙিনায় আসে, দূর থেকে দেখে এখন আর লাঠি দেখেনা, পায়ের শব্দের ভাষা বোঝে এবং পালায়। পালানো তার জীবনের অমৃত ভাণ্ডার। পেন্দি মায়ের খাতায় নাম লেখায় সময়ের পিঠে তার বেবীরা চোখ ফোটার আগেই হারিয়ে যায় যেমন হারিয়েছে তার ভাই বোনেরা মড্ডাদের দাপটে নিজের ইচ্ছে হারায়, বারবার। অনেকদিন বাদে পেন্দীকে আমার আঙ্গিনায় দেখি ভেঙ্গে পড়া শীর্ণ কায়া তবে একাকি নয় দুচোখ মেলা ছোট্ট পেন্দী মায়ের বুকে সাহস খোঁজে আমার পায়ের শব্দের ভাষা বোঝে না, লাঠি নিয়ে সামনে দাঁড়াই, অবিচল দাঁড়িয়ে থাকে পেন্দির চোখ আমার চোখে, পলকহীন।

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

পাওয়ার হাইজ্যাকিং

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুচতুর এবং সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান ঘটে গেছে। সারাদিনে যে ঘটনার উত্তর খুঁজে পাইনি রাতের অন্ধকারে সেটা পরিষ্কার হয়েছে। সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রতিবারে দুপুরে চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। এবারেও হয়েছে। বিজেপি নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতায় এগিয়ে আছে। কিন্তু কোন জয় পরাজয় ঘোষণা নেই। সন্ধ্যা পর্যন্ত একই চিত্র। ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা কি এতটাই অকর্মণ্য! ইতিমধ্যে মিডিয়া সমস্বরে প্রচার করছে নবান্ন ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি সরকারি দপ্তর দখল নিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী তথা কেন্দ্রীয় সরকার। (সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন দেশের Gen -Z কার্যক্রমের মত মনে হচ্ছে না?) । আসলে সরকারি ক্ষমতা অধিগ্রহণ হতে শুরু করেছে দুপুর গড়াতে গড়াতে। দুপুর থেকে চলেছে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা। ভোট হিসাব অতি ধীর করে, সমস্ত কেন্দ্রের গণনা না করে এবং জিতে গেছে এই প্রচার নিরন্তর করে দল ও প্রশাসনের মনবল ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। যেহেতু দলটা নীতিহীন ক্ষমতালোভী ও দুর্নীতিবাজ মানুষ নিয়ে তৈরি তাই তাসের ঘরের মত তাদের মনবল ভেঙ্গে পড়েছে। ওদিকে ঘরে বাইরে তাণ্ডব চলেছে। গণনা কেন্দ্রে বাহিনীর পাহারায় জয়ধ্বনি চলেছে অবিরাম। দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিকে বিজেপির মিছিল বাহিনী দাপিয়ে বেড়িয়েছে। দোকানপাট বন্ধ হয়েছে, পার্টি অফিস লোকশূন্য হয়ে বন্ধ হয়েছে। ফল ঘোষিত হবার আগেই এতো বছরের পরাক্রমশালী বাহিনী হার ধরে নিয়ে গর্তে সেঁধিয়ে গেছে। পাড়ায় পাড়ায় উধাও হয়ে গেছে নেত্রী ও নেতাদের হোর্ডিং, পতাকা- সেখানে জায়গা নিয়েছে বিজেপির নেতাদের ছবি ও পতাকা ! জ্ঞানেস বাহিনী দখল করলো প্রশাসন, কর্মীবাহিনী দখল করলো গণনা কেন্দ্র আর বাইক বাহিনী দখল করলো বাংলা। অথচ কি ট্র্যাজেডি - তখনও ভোট গোনা শেষ হয়নি, দুপুরের পর থেকে একই রেকর্ড বেজে চলেছে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

মিলেমিশে

বাংলায় বিজেপিকে অনেকেই সমর্থন করেন। তাঁরা মনে করেন একমাত্র এই দলই হিন্দুত্ব রক্ষার কান্ডারী। সে ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাও হিন্দুত্বের গরিমা লাভ করে। নিম্নবর্গীয় মানুষ নিজেদের হিন্দু ভাবেন যদিও তথাকথিত হিন্দুরা তাঁদের হিন্দু ভাবেনা, ঘৃণা করে। তাই নিম্নবর্গীয় অনেকেই সে দলের প্রার্থী। এটা নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। বাইরের খোলস ছেড়ে এই নিম্নবর্গীয় মানুষেরা যদি দলটির মূল ভাবনায় যায় তবে দেখতে পাবে সেখানে গণতন্ত্র নেই, আছে মনুতন্ত্র। ঘৃণার আবর্তে মানুষকে কেবল ভাগ করা। ব্রাহ্মণদের সেবাদাস বাকিরা - কেউ কম কেউ বেশি। আপনার জাতিগত যে অবস্থান, তাতে সে দল কি আপনাকে মানুষ ভাবে ? এমনকি আপনি যদি শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ না হয়ে মানুষ হন - তাহলে ব্রাহ্মণ্যবাদের এই ঘৃণাতত্ত্ব দেখলে আপনিও আতকে উঠবেন। এমন মানবতা বিরোধী দলকে আপনি কেন সমর্থন করবেন ? আমাদের দেশ বহুত্ববাদী, বিশ্বের কাছে সে জন্যে আমরা গর্বিত। কবির কথায় - শক হুন পাঠান মোগল যেখানে একদেহে হয় লীন। আসুন আমরা মিলেমিশে থাকি, যাঁরা বিভেদের কথা বলে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করি।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ডিটেক্ট ডিলিট ডিপোর্ট

দেশ শাসনের ভাগ্য নির্ধারণ করে যাঁরা তাঁরা দেশ চালায় না। প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশের নিম্নবর্গীয় মানুষ (SC/ST/OBC) এবং সংখ্যালঘুরা আর দেশ চালায় ভোদ্রলোকশ্রেণী। বর্তমান শাসকদল চাইছে বর্তমান সংবিধান তছনছ করে গণতন্ত্রহীন একদলীয় (স্মরণীয় শ্লোগান - একদেশ, এক ভাষা, এক নেতা! রেল স্টেশনে এক পণ্য দোকান) শাসন ব্যবস্থা চালু করা। অথচ যাঁদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গণতন্ত্রহীন সাম্প্রদায়িক ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে - সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে তারাই অর্থাৎ sc/st/obc রা। সেই ডাল তাঁরা কাটছে যে ডাল তাঁদের আশ্রয়। এবারের রাজ্য ভোটের কেন্দ্রীয় শ্লোগান - ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট। ইতিমধ্যে রাজ্যে ডিটেক্ট করা হয়ে গেছে (৯১লক্ষ)। চলছে ডিলিট পর্ব। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ডিপোর্ট (দেশ থেকে তাড়াবে!) করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে । এই প্রক্রিয়ায় সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে sc st obc রা এবং মুসলমানরা। অনেকের কাছে উদ্বাস্তু হচ্ছে উদ্বৃত্ত। কিন্তু আদি বাসিন্দা যাঁরা অমিত শাহ্ দের পূর্বপুরুষদের থেকে হাজার হাজার বছর আগে এই ভূমিতে আছে তারাও আজ বেনগরিক হওয়ার পথে। যেমনটা ইতিপূর্বে ঘটেছে আসামে। বিজেপি মূলত অবাঙালি তথা হিন্দি বলয়ের দল। নির্বাচনে কাপাচ্ছে দাপাচ্ছে সেই হিন্দি ভাষীরা। এই অবাঙালি আগ্রাসন থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে সমস্ত বাঙালির একজোট হওয়ার দরকার। কিন্তু বাংলার ভদ্রলোকশ্রেণি ধরি মাছ না ছুঁই পানি করেই থাকতে অভ্যস্ত এবং থাকবে। যদিও উচ্চ বর্গীয় তথা ভদ্রলোকশ্রেণীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা আছে, রণ নীতিতে তাঁরা সব চাইতে দড় - কিন্তু সাধারণের প্রত্যাশার প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা অতি সীমিত। সুতরাং মূল কাজ করতে হবে বাকিদের। বিজেপি ভাঙ্গন ধরাতে চায় মানুষের মধ্যে। মানুষের মধ্যে ভাঙ্গন ধরলে দেশের ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হবার সম্ভাবনা বাড়বে। সুতরাং সংবিধান রক্ষা করতে নিম্নবর্গীয় মানুষ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একজোট হয়ে detect delete deport মিশনকে প্রতিরোধ করতে বিজেপিকে একটা ভোট ও দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

Chikitsa

কর্কট রোগ হলে বড় বিপদ চিকিৎসায় ভাল নাহলে বিয়োগান্ত নাটক পৃথিবীর সব সুন্দর ছেড়ে চলে যেতে হয় ভোগ শোক আশা বাসা সব পড়ে থাকে কর্কট রোগের চিকিৎসা বেশ কঠিন নির্দয় নির্মম বাঁচতে হলে প্রথমে মারতে হয় প্রতিটি কোষ কোষের প্রদাহ কেমোর সুতীব্র শাসনে তারপর ব্যবচ্ছেদ। যে অঙ্গকে ঈশ্বরের দান ভেবে চরাচর উথাল পাথাল, ঈশ্বরকে বুড়ো আঙ্গুল। তারপরেও কর্কটের গঙ্গাপ্রাপ্তি না হলে গঙ্গা বিসর্জন দিতে হয় জীবন। আমার দেশ আজ কর্কট রোগে আক্রান্ত সাম্প্রদায়িক বিষ নীল করেছে সর্ব দেহ। কেমো দিতে হবে সুতীব্র ক্ষিপ্রতায় অথবা ব্যবচ্ছেদ।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

দোযখ বাস

মন্টু আর মোছিউদ্দি রেল স্টেশন থাকে। দু চার টাকা হাতে দেয়না লোকে কাজ করার বয়স হয়নি তাও দেয় কাজের খোটা যদি পায় দিনের শেষে কিছু খায় তারপর হিলতলা জুতোর খটখট দেখতে দেখতে ঘুম। এখন রমজান মাস। কারো খোটা বাণী শুনতে হয়না। দিন ফুরালে যায় মসজিদ বা বাহারি বাড়ির সামনে জুটে যায় কিছু ফলমূল তৃপ্তিতে খায় দুইজনে তারপর ঘুমায় অঘোরে। মছিউদ্দি বলে, আমার তো সারাবছরই রোজা আমার তো নিশ্চিত বেহেশত আর বাহাত্তর হুর। মন্টুর স্বর্গ নেই অপ্সরা নেই তবু তার সাজা।।

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

কে শত্রু

কুচক্রী কৃষ্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনকে বলেছিল, ওরা ভাই নয়, ওরা শত্রু অর্জুন গান্ডিব তুলেছিল শত্রুর দিকে যুদ্ধশেষে বিজয়ের হাসি হাসতে গিয়ে দেখলো তার ভাইয়েরা সব লাশ হয়ে গেছে হাসছে শ্রী কৃষ্ণ। হিন্দু হিন্দু বলে আমরা অবতীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে সামনে যাঁরা তাঁরা মুসলিম খ্রিস্টান বুদ্ধিষ্ট শূদ্র ওরা শত্রু ওদের দিকে তাক করছি গান্ডিব লাশ পড়ছে আর খালি হচ্ছে বোনের ঘর মায়ের কোল ভাইয়ের স্বপ্ন হাসছে ক্ষমতালিপ্ষু হায়নার দল। বানরের পিঠাভাগ আমরা বুঝছি না।

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

কে শেখাবে ০৩.০৩.২৬

আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন মানুষ হতে কি শিখবে, কেমন মানুষ হবে ? আপনি যখন নিড়ানি নিয়ে আসল বাঁচাতে ব্যস্ত তখন আপনার সন্তান ব্যস্ত আগাছায়। আপনার সন্তান শিখছে, শিখবে আপনি জন্মেছেন পুরুষ ব্রহ্মার মাথা থেকে পা কোন এক অংশ হতে আর এইভাবে পরিচয় বয়ে চলবেন আপনি, আপনার সন্তান না না পৃথিবীর সব মানুষ, সব ধর্মের মানুষ এইভাবে জন্মায় না কেবল মাত্র হিন্দুদেরই এমন পরম্পরা আপনি গর্বিত হিন্দু তাই আপনি দেশ ছাড়বেন কিন্তু ধর্ম ছাড়বেন না আপনি নাগরিকত্ব হারাবেন কিন্তু ধর্ম ছাড়বেন না আপনার সন্তান শিখবে ধর্মই একমাত্র ধম্ম সে শিখবে ময়ূরের চোখের জলে সন্তান জন্ম নেয় সে শিখবে হাতির মাথা কি অবলীলায় জুড়ে যায় মানুষের ধড়ে সে শিখবে হনুমান কি করে সূর্যকে গিলে খায় সে শিখবে না কি করে লেজের আগুনে পোড়ে মুখ সে শিখবে না কি করে প্রশ্ন করতে হয় সে শিখবে না কি করে জাতের সিঁড়ি ভাঙতে হয় আপনার সন্তান বিজ্ঞান শিখবে না অবিজ্ঞান আর কুসংস্কারের মেলায় গড়াগড়ি খাবে উঁচু জাতের ওরা বাণী ছড়াবে হরির লুট যেমন আর সেসব মহাপ্রসাদের লোভে মারামারি হানাহানি করে মরবো আমরা ওদের পথ নিষ্কণ্টক হবে। সূর্য প্রতিদিন ওঠে আমাদের জীবন বোধের সূর্য উঠবে কবে ?

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আমার হিন্দুত্ব

ঠিক এই কথাই ভাবছিলাম আমি তো হিন্দু হিন্দুত্বের সাথে আপোস করে কিছুই করবো না আমার ঠাকুর্দা আপোস করেনি যখন শাসকের ভয়ে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হয়ে যাচ্ছিল নত মস্তকে ঢুকছিল মসজিদে মসজিদে ঠাকুর্দা হাতের ঢাল সরকির বিশ্বাস হারায়নি হিন্দুত্বের গরিমায় লড়েছে আমার বাবা ইংরেজ শাসনের কূট চক্র উপেক্ষা করে গীর্জায় ঢোকেনি লাল সাদা নিশান আর ডংকার উদ্দামে হিন্দুত্বের জয়গান গেয়েছে আমি দেশভাগের প্রবল স্রোতে বাপ ঠাকুর্দার ভিটে হেলায় ত্যাগ করেছি, ভেসে ভেসে চলেছি হেথা হোথা সব ছেড়েছি , হিন্দুত্ব ছাড়িনি। হিন্দু ধর্মের পাজিপুঁথি আমাকে হিন্দু বলেনা কিন্তু আমি বিশ্বাস করি হিন্দুত্বে উচ্চ বর্ণের মানুষ আমাকে ছোট জাত বলে কিন্তু আমি বিশ্বাস করি হিন্দুত্বে ব্রাহ্মণ আমাকে মন্দিরে ঢুকতে দেয়না আমার ছায়া মাড়ায় না, আমার ছোঁয়া খায়না আমার ঘরে মেয়ে দেয়না, আমার ঘরের মেয়ে নেয়না আমার সমাজে শিক্ষা দেয়না না দেয়ার পাহাড় হিমালয়কে হার মানায় তবু আমি পরকালের স্বপ্নে বিভোর থাকি আমার ভোটে আমাকে বেনাগরিক করার জাদুমন্ত্র আমি বুঝিনা, বুঝতে চাইনা ব্রাহ্মণের পদসেবায় নত মস্তকে হিন্দুত্বের প্রসাদ হিন্দুত্বের অবসাদ আকন্ঠ পান করি।

রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তারার নিশানা

বাংলার মাঝে এক সীমানা আছে দেখা যায় বোঝা যায় সবাই বাঙ্গালী তবু যাঁরা পুব আকাশের তারা ফেলে সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমে আসে তাঁরা আর বাঙ্গালী নামে অভিভাষণ হয় না উদ্বাস্তু বছর বছর পিছনে হারায় শতাব্দী হাতে হাতে লুফোলুফি করে তবু তাঁরা উদ্বাস্তু উদভ্রান্ত হয়ে গঙ্গায় ডুব দেয় বাঙ্গালী হবার বাসনায় নতুন জামা গায়ে দিতেই ভানুমতির খেল জামা আর নতুন থাকেনা অবিকল যে পরিধান ছিল ঠাকুর্দার উদ্বাস্তু অবিকল যে পরিধান ছিল বাবার উদ্বাস্তু অবিকল নাতির গায়ে লেপটে থাকে উদ্বাস্তু পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবা লাল আবির দেখে মুক্তির নেশায় তাঁরা ছোটে ভুলে যায় পুব আকাশের তারার নিশানা। ১৫/০২/২৬

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মঙ্গলজড়ি পাখিরালয় ৩

ইহারা এখানেই থাকে , থাকে কিছুকাল কেউ কেউ আসে দূরদেশ থেকে কেউ কেউ এখানেই থাকে বার মাস ওই যে দূরে পাহাড় , পাহাড়ের ঘন গাছ গাছালি ওখানে ওদের সংসার আরও সংসার আছে যারা তীর ধনুকের জীবন নিয়ে নিত্য লড়ে মানুষ শিকারির সাথে ইহারা আসে দূরদেশ থেকে দল বেঁধে বেঁধে নীল আকাশে সারি সারি মালার মতন ওড়ে হাজার হাজার মাইল ওড়ে উষ্ণ হাওয়ার নিশানায় তারপর বিছানা পাতে জলাশয়, গাছের ডালে কেন আসে কোন সুখের তাড়নায় ছাড়ে ঘর? মানুষও ঘর ছাড়ে যুদ্ধের দামামা, ধর্মের জিগির, ক্ষমতার লোফালুফি মানুষও ঘর ছাড়ে জীবনের ওমে তৈরি করা বাপ ঠাকুর্দার প্রাণের আবাস , সব ছাড়ে জীবনের মোহে, সে মোহ ফিরায় কি তাহাদের ঘরে? ইহারা ঘর ছাড়ে শীতের তাণ্ডবে সাদা পুরু বরফের নিচে চাপা পড়ে জীবনের রসদ লতা পাতা পোকা মাকড় সব সব কিছু ডানায় ডানায় সঞ্চিত রসদ নিয়ে পাখা মেলে ওরা উষ্ণতার খোঁজে ছোটে পৃথিবীর কোনায় কোনায় ওদের তো বিদেশ নেই, পৃথিবী ওদের ঘর ওদের তো ধর্মের চড়াই উৎরাই নেই নেই ক্ষমতার একরোখা দ্বেষ বুকভরা ভালবাসা এবং বাঁচার তাগিদ ইহাদের পৌঁছে দেয় স্বপ্নের দোর সব স্বপ্ন মেটেনা সবার যেমন ঘর ছাড়া দেশ ছাড়া মানুষ হারিয়ে যায় পথে যেতে যেতে বিকিয়ে যায় মাংসাশী হাড় খাবার হয় টেবিলে টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় জঙ্গলে মঙ্গলে ভাষা সংস্কৃতি জীর্ণ হতে হতে খসে পড়ে ধীরে যেমন ইহারা লোভী মানুষের শিকার হয় রক্তাক্ত পালক ছড়িয়ে পড়ে ধূলায় মানুষের খাবার টেবিল উপচায় উল্লাসে ইহারা এখানে (মঙ্গলজরিতে) আছে সুখে মানুষ এখানে আসে ভালবেসে ঘোরে ফেরে দেখে সকাল সন্ধ্যায় শীতের আমেজে তারপর ঘরে ফেরে । ইহারাও ফিরবে একদিন উষ্ণতার শিরা বেয়ে ফিরে যাবে ঘরে হাজার হাজার মাইল উড়ে যাবে দল বেঁধে। মানুষ যদি হতো পাখিদের মন এরাও ফিরত ঘরে ইহাদের মতন।

আলের গল্প ৬

একটা গাছ। একটা বট গাছ। যার অর্ধেক এপারে, অর্ধেক ওপারে। তার কোন দেশ নেই, কোন ধর্ম নেই। কিন্তু তাকে কেটে ফেলার হুকুম এসেছে। এ গল্প জীবন দিয়...