বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

তসলিমা নাসরিন কি এক বিপদের নাম ?

এক অসাম্প্রদায়িক তথা নাস্তিক মানুষ বিতাড়িত হোল সাম্যবাদী তথা কমিউনিস্ট সরকার দ্বারা। এক সাম্প্রদায়িক সরকার সেই অসাম্প্রদায়িক মানুষটিকে আবার রাজ্যে ফিরিয়ে আনলো। তবে কি সাম্যবাদী সরকারই আসলে সাম্প্রদায়িক? আর সাম্প্রদায়িক সরকার আসলে সাম্যবাদী ? তখন যা চেয়েছিলাম তা পাইনি। এখন যা ভাবিনি তাই পাচ্ছি ! ঘটনার মূলে ছিল তসলিমা নাসরিনের উপন্যাস, লজ্জা। লজ্জা - বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এক বাস্তবতা। লেখক তাঁর দেশের কথা, সমাজের কথা লিখেছেন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে, অন্য নাগরিকের উপর সংগঠিত অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, দেশের মানুষকে মানবতার বন্ধনের কথা বলেছেন। অন্য দেশের মানুষ সেটাকে কিভাবে দেখবে তা লেখকের বিষয় নয়। সাম্প্রদায়িক শক্তি কোথা থেকে কিভাবে তার রসদ জোগাড় করবে সেটা লেখকের কর্তব্যে বাধা হতে পারে না। লজ্জার জন্য তিনি স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, তাতে স্বদেশের লজ্জা কমেনি বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে - যা আজ মহীরূহ হয়ে দেখা দিয়েছে। সেই কুড়ি বছর আগে যদি সেদেশের সরকার বিষয়টিকে দেশের লজ্জা হিসেবে দেখতো, যথাযথ ব্যবস্থা নিত তবে আজ সেদেশের নেত্রীকে অন্যদেশে পালাতে হতো না। বাংলার কমিউনিস্ট সরকার লজ্জাকে যদি সাম্প্রদায়িক মোড়কে না দেখতো, তবে বিভেদকামীদের এতো বাড়বাড়ন্ত হয়তো হতো না। জনপ্রিয়তার সস্তা তাস খেলতে গিয়ে তারাও আজ গাড্ডায় পড়েছে। সেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না। তৎকালীন সাম্যবাদী সরকার লজ্জার মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পায়নি। দেশভাগে সংখ্যালঘু হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রিস্টানদের যন্ত্রণা তাঁরা কখনোই অনুধাবন করতে চায়নি, করতে পারেনি। যদি অনুধাবন করতে বা ভবিষ্যত্ দেখতে পারতো তবে বাংলাভাগের সহায়ক হতো না। তাঁরা বাংলার কথা ভাবতো না, বাঙালি সত্ত্বার কথা ভাবতনা। ক্ষমতার লিকলিকে লালসায় জনসংঘের শ্যামাপ্রসাদ থেকে কোন অংশে কম ছিলনা। সমগ্র তথা অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম ও তপশীলিদের টপকে তাঁরা অর্থাৎ তথাকথিত উচ্চজাতির সমাজপতিরা কখনোই বাংলার শাসক হতে পারতনা। সেই ভাবনায় কংগ্রেস - জনসংঘ - কমিউনিস্টরা এক সারিতে ছিল। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের শরৎ চন্দ্র বসু। শিকড়ছেঁড়া মানুষের যন্ত্রণা বুঝতোনা বলেই মরিচঝাপির নৃশংস পরিণতি ঘটাতে পেরেছিল। তাঁদের লজ্জার ইতিহাস বাঙালী জাতির জীবনে এক চরম পাওনা। আমি অবাক হয়েছিলাম তসলিমা নাসরিনকে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। মৃত সন্তানের পাশে বসে মা যেমন ভাবে - এই বুঝি আমার বাছা চোখ মেলে তাকাবে - তেমনি আমিও ভাবতাম প্রিয় বামপন্থী সরকার তসলিমাকে ঘরে ফিরিয়ে আনবে। সেটা আর কখনও ঘটেনি। মমতার প্রতি আমার কোন প্রত্যাশা ছিলনা। তবে প্রশ্ন জাগে - বিজেপি সরকার কেন ফিরিয়ে আনছে তসলিমাকে ? বাংলার অসাম্প্রদায়িক ভাবনা তছনছ করে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বালাতে সে কি ক্যাটালিস্ট হিসাবে কাজ করবে ? যে উগ্রবাদী মুসলিমরা তাঁর মাথার দাম ধার্য করেছিল, তারা কি চুপচাপ বসে থাকবে? সরকার সেই বিভেদ কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর কোন উদ্দেশ্য সাধন করবে ? রাজনীতির জটিল অংক আমি বুঝিনা তবে আশঙ্কা হয়। তবে একজন বাংলাভাষী লেখক আবার মাতৃভাষায় স্বাদ নেবে সেটা ভেবে আমি খুশি। বাংলা হোক বাঙালির পীঠস্থান।

তসলিমা নাসরিন কি এক বিপদের নাম ?

এক অসাম্প্রদায়িক তথা নাস্তিক মানুষ বিতাড়িত হোল সাম্যবাদী তথা কমিউনিস্ট সরকার দ্বারা। এক সাম্প্রদায়িক সরকার সেই অসাম্প্রদায়িক মানুষটিক...