শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

শরণার্থী

শরণার্থী পেন্দিদের জন্ম হয়েছিল আবর্জনার মধ্যে তখনও চোখ ফোটেনি, ওর মা সবার অজান্তে জড়ো করেছিল অব্যবহৃত জিনিসপত্রের ঘরে। বেশ থাকা হলো না, মিহি মিহি ডাক কানে আসতেই সব কটাকে ফেলে দিলাম দেয়ালের ওপারে। কাক আর মদ্দা বেড়ালের কবলে কে যে কোথায় শুধু পেন্দি বেঁচে গেল পালানো জীবনে। আবার দেখলাম বাড়ির আঙিনায় একটু বড় হয়েছে, এক চোখ বন্ধ দূর থেকে তাকায় ভয়ে ভয়ে, কাছে গেলে পালায় হাতের লাঠিকে সে একদম বিশ্বাস করে না। আমি তাকে খাবার দেইনা, তবু সে বেঁচে থাকে আমার আঙিনায় আসে, দূর থেকে দেখে এখন আর লাঠি দেখেনা, পায়ের শব্দের ভাষা বোঝে এবং পালায়। পালানো তার জীবনের অমৃত ভাণ্ডার। পেন্দি মায়ের খাতায় নাম লেখায় সময়ের পিঠে তার বেবীরা চোখ ফোটার আগেই হারিয়ে যায় যেমন হারিয়েছে তার ভাই বোনেরা মড্ডাদের দাপটে নিজের ইচ্ছে হারায়, বারবার। অনেকদিন বাদে পেন্দীকে আমার আঙ্গিনায় দেখি ভেঙ্গে পড়া শীর্ণ কায়া তবে একাকি নয় দুচোখ মেলা ছোট্ট পেন্দী মায়ের বুকে সাহস খোঁজে আমার পায়ের শব্দের ভাষা বোঝে না, লাঠি নিয়ে সামনে দাঁড়াই, অবিচল দাঁড়িয়ে থাকে পেন্দির চোখ আমার চোখে, পলকহীন।

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

পাওয়ার হাইজ্যাকিং

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত সুচতুর এবং সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান ঘটে গেছে। সারাদিনে যে ঘটনার উত্তর খুঁজে পাইনি রাতের অন্ধকারে সেটা পরিষ্কার হয়েছে। সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রতিবারে দুপুরে চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। এবারেও হয়েছে। বিজেপি নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতায় এগিয়ে আছে। কিন্তু কোন জয় পরাজয় ঘোষণা নেই। সন্ধ্যা পর্যন্ত একই চিত্র। ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা কি এতটাই অকর্মণ্য! ইতিমধ্যে মিডিয়া সমস্বরে প্রচার করছে নবান্ন ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি সরকারি দপ্তর দখল নিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী তথা কেন্দ্রীয় সরকার। (সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন দেশের Gen -Z কার্যক্রমের মত মনে হচ্ছে না?) । আসলে সরকারি ক্ষমতা অধিগ্রহণ হতে শুরু করেছে দুপুর গড়াতে গড়াতে। দুপুর থেকে চলেছে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা। ভোট হিসাব অতি ধীর করে, সমস্ত কেন্দ্রের গণনা না করে এবং জিতে গেছে এই প্রচার নিরন্তর করে দল ও প্রশাসনের মনবল ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। যেহেতু দলটা নীতিহীন ক্ষমতালোভী ও দুর্নীতিবাজ মানুষ নিয়ে তৈরি তাই তাসের ঘরের মত তাদের মনবল ভেঙ্গে পড়েছে। ওদিকে ঘরে বাইরে তাণ্ডব চলেছে। গণনা কেন্দ্রে বাহিনীর পাহারায় জয়ধ্বনি চলেছে অবিরাম। দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিকে বিজেপির মিছিল বাহিনী দাপিয়ে বেড়িয়েছে। দোকানপাট বন্ধ হয়েছে, পার্টি অফিস লোকশূন্য হয়ে বন্ধ হয়েছে। ফল ঘোষিত হবার আগেই এতো বছরের পরাক্রমশালী বাহিনী হার ধরে নিয়ে গর্তে সেঁধিয়ে গেছে। পাড়ায় পাড়ায় উধাও হয়ে গেছে নেত্রী ও নেতাদের হোর্ডিং, পতাকা- সেখানে জায়গা নিয়েছে বিজেপির নেতাদের ছবি ও পতাকা ! জ্ঞানেস বাহিনী দখল করলো প্রশাসন, কর্মীবাহিনী দখল করলো গণনা কেন্দ্র আর বাইক বাহিনী দখল করলো বাংলা। অথচ কি ট্র্যাজেডি - তখনও ভোট গোনা শেষ হয়নি, দুপুরের পর থেকে একই রেকর্ড বেজে চলেছে।

মেঘনাদ

https://www.facebook.com/share/p/1CbqJuT21U/ মহাকাব্য রামায়ণ বা মহাভারত কি আড়াই ঘণ্টার ক্যাপসুলে পোরা সম্ভব? তেমনি একটা চেষ্টা করা হয়েছে...