শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আলের গল্প ৬

একটা গাছ। একটা বট গাছ। যার অর্ধেক এপারে, অর্ধেক ওপারে। তার কোন দেশ নেই, কোন ধর্ম নেই। কিন্তু তাকে কেটে ফেলার হুকুম এসেছে। এ গল্প জীবন দিয়ে অনুভব করার। বর্ডারের আলের উপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা মানুষের ভিতর এমন বটগাছ আছে, যার কোন দেশ নেই। ভারত - বাংলাদেশ বর্ডার। ঠিক সীমানা বা আলের উপর দাঁড়িয়ে আছে একটি বটগাছ। কাঁটাতার গেছে তার গা ঘেঁষে। এই গাছের নিচে একসময় হাট বসতো। এপারের মানুষ, ওপারের মানুষ, হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবাই সে হাটে আসতো। সবজির পশরা সাজিয়ে বসতো এপার ওপার ভাগ না হওয়া মানুষেরা। রাম রহিম সবাই। তারপর একদিন হঠাৎ দেশ ভাগ হয়ে গেল। মাঝখানে আল পড়ে গেল, দেশভাগের আল। মানুষ ভাগ হয়ে গেল, হাট ভেঙে গেল। কিন্তু বটগাছ রয়ে গেল, ঠিক আলের ওপর। একদিন সীমান্তরক্ষী এলো। হুকুম হলো, গাছটি কাটতে হবে। কারণ তার ডালপালা ওপারে চলে গেছে। এটা দেশের নিরাপত্তার জন্যে বিপদজনক। খবর শুনে দুই পারের মানুষ এলো। যাঁদের জন্ম এই গাছের ছায়ায় ছায়ায়, তাঁদের একজন বললো - এই গাছের নিচে আমার ঠাকুরদা আমাকে প্রথম হাঁটতে শিখিয়েছিল। আরেকজন,ওপারের দাদি বললো - আমি থাকতাম.... ওই যে তালগাছটা... তার পাশে। আমার বিয়ে হয়েছিল এই গাছের নিচে। তাঁদের দুইজনের কাছে কোন দলিল নেই। দুই জনের চোখে জল, দুইজনের যন্ত্রণা এক। কারণ দুইজনেই জানে, ওই গাছ তাঁদের শেষ আল। যে আল ইচ্ছে করলেই টপকাতে পারেনা। তাঁরা কেউ দেশভাগ চায়নি, তাঁরা শুধু একটু ছায়া চেয়েছিল, শান্তি চেয়েছিল। আমরা আল দিয়েছি মনে, আল দিয়েছি মাঠে, আল দিয়েছি মানচিত্রে। কিন্তু একটা বটগাছকে আল শেখাতে পারিনি। সে আজও জানেনা কোনটা ভারত কোনটা বাংলাদেশ। সে শুধু জানে তার শিকড় মাটিতে আর তার ছায়া মানুষের জন্য। আমাদের চারপাশেও এমন অনেক গাছ আছে। সম্পর্কের গাছ, বন্ধুত্বের গাছ, ভালোবাসার গাছ - যাদের আমরা নিজেরাই কাঁটাতার দিয়ে ভাগ করে রাখি। #goutamaalee

আলের গল্প ৬

একটা গাছ। একটা বট গাছ। যার অর্ধেক এপারে, অর্ধেক ওপারে। তার কোন দেশ নেই, কোন ধর্ম নেই। কিন্তু তাকে কেটে ফেলার হুকুম এসেছে। এ গল্প জীবন দিয়...