বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

বই পড়া নিয়ে দুকথা

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ছোটবেলায় শুনেছি। ছোটবেলা মেজবেলা হাত ধরাধরি করে চলেছি কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি। বড়বেলায়ও শুনছি ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু যা দেখছি তাতে মিলছে না। কেন মিলছেনা ? ভাসা ভাসা বুদ্ধিজীবীরা যা বলেন তাতে মন তৃপ্তি পায়না। যেমন আরএসএসকে বাইরে থেকে যা বুঝতে পারি তা ওই সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ( Partha chatterjee) বই যা বোঝায় তা আলাদা। তেমনি ইসলাম নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা কি শেখায় তা আমরা বুঝতে পারি না কারণ ভিতরের কথা বলার মানুষ পাইনা। " নাস্তিক ইমামের হজ্ব" - বই সেই অনালোকিত মাদ্রাসা শিক্ষা তথা ইসলামের স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে। ধর্ম মানুষের প্রাণের আরাম। মানুষ সে আরাম যেখানে পাবে সেই ধর্মে বিশ্বাস রাখবে। কিন্তু ইসলামে সেই বিশ্বাসের স্বাধীনতা নেই। ইচ্ছে করলে ইসলাম ত্যাগ করা যাবেনা। নবীর নির্দেশ, ইসলাম যে ত্যাগ করবে বা অবিশ্বাসী হবে তার একটাই পরিণতি - মৃত্যু। একটা উত্তর এই পড়া থেকে জানলাম, ইসলাম বিশ্বাসী মানুষের প্রথম পরিচয় কেন মুসলমান, এমনকি সে যদি কমিউনিস্টও হয়। মক্কা মদিনা যাওয়ার স্বপ্ন কোন বিধর্মী দেখতে পারেনা, সে অধিকার সে রাষ্ট্র দেয়না। সেখানে নির্মোহ বর্ণনা আছে এই বইটিতে। নিখেছেন একজন বাংলাদেশের ইমাম - মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ইসলাম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়েছেন এবং যথারীতি প্রাণের ভয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন। বইয়ের দাম ২৫০/- টাকা। E-mail: aamrasachetan@gmail.com

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

আমাদের পরিবেশ: আমাদের করণীয়

আমরা যারা ধার্মিক, ধর্মগ্রন্থ ( গীতা, বাইবেল, কোরআন...) একবার পড়ে পাশে সরিয়ে রাখি না। বারবার পড়ি, মুখস্ত হয়ে গেলেও পড়ি। তেমনি পরিবেশের কথা সচেতন মানুষেরা বারবার বলেন। কারো কাছে একঘেয়েমি মনে হয়, তবুও বলেন। কারণ সুস্থ পৃথিবীর জন্যে এটা একটা ধর্মপাঠ। ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সেই ১৯৭৩ সালে সুজারল্যান্ডে শ্লোগান উঠেছিল - Only one Earth. প্রাণময় সেই একমাত্র পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে স্বাভাবিক পরিবেশে রাখতে হবে, নাহলে সেও একদিন প্রাণহীন হয়ে যাবে। আর সেই পৃথিবীর ভাগ্য বিধাতা কোটি কোটি প্রাণীর মধ্যে একটি মাত্র প্রাণী - সে মানুষ(homo sapiens)। সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হবে সবচেয়ে সুন্দর পৃথিবীর হত্যাকারী! এই দিন বছরে একবার আসে। কিন্তু একবার করে বা বকে পরিবেশ সচেতন মানুষের কাজ শেষ হয়না। প্রতিনিয়ত সুস্থ থাকার জন্য আমরা যে কাজগুলি করি, সুস্থ পরিবেশের জন্যেও তেমনি কিছু কাজ আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। ১। গাছ: সুযোগ পেলে গাছ লাগাতে হবে। নিজের জমিতে বা পতিত জমিতে। আমরা বাড়িতে বা পথে যেতে যেতে নানা ফল খাই। একটু সচেতন ভাবে সেই ফলের বীজ ফাঁকা জায়গায় ফেলতে হবে। হয়তো সবার অজান্তে সেই ফল থেকে গাছ হবে, পৃথিবী একটু সবুজ হবে। ২। পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে : যাঁদের মোটরসাইকেল আছে তাঁরা একদম হাটায় অভ্যস্ত নয়। একটু দূরে হলে তো একদম খোড়া। এই অভ্যাস পাল্টাতে হবে নিজে ভাল থাকার জন্য এবং পরিবেশ ভাল রাখার জন্য। কাছেপিঠে হলে পায়ে হেঁটে যান। একটু দূরে হলে সাইকেল চালিয়ে যান। দুই বা চার চাকার গ্যাস চালিত বাহন পরিহার করুন। এটা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। ৩। খাবার : অতিরিক্ত খাবার ফেলে দেবেন না। খাবার পঁচে পরিবেশ দূষণ বাড়ায়। অভাবী মানুষের অভাব নেই আমাদের দেশে, তাঁদের দিন। তাঁরা উপকৃত হবে আবার পরিবেশও সুস্থ থাকবে। ৪। জৈব সার : বাতিল শাকসব্জি লতা পাতা বাড়িতে বা জমিতে গর্ত করে ফেলুন। গর্তের মুখ চাপা দিয়ে রাখুন যাতে দূষণ না হয়। ইকোসিস্টেম অনুসারে এগুলি সারে রূপান্তরিত হবে যা মাটিকে উর্বর করবে। ৫। কীটনাশক : চাষে, গাছে কীটনাশক ব্যবহার করার আগে ভাবুন। কীটনাশক শুধু পোকামাকড় মারেনা পাখী ও অন্যান্য প্রাণী মেরে ফেলে। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে দেয় যা পরিবেশের ভারসাম্য তথা সুস্থতা নষ্ট করে। পরিবেশ বান্ধব ওষুধ ব্যবহার করুন। ৬। প্লাস্টিক : সচেতন ভাবে প্লাস্টিকের দ্রব্য যেমন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কাগজ, কাপড় বা বাঁশের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা যায় যা পচনশীল। ৭। গাড়ি : জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে গাড়ির ব্যবহারও তত বেড়েছে। গাড়ি প্রয়োজনকে ছাড়িয়ে আয়েশের বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক পরিবারে একাধিক গাড়ি এক দেখন দারি হয়ে গেছে। আমরা ভুলে যাই গাড়িতে তেলের ব্যবহার সর্বাধিক, দূষণ ছড়ায়ও সর্বাধিক। অথচ একটু সচেতন হলে পরিবেশের সহায়ক হতে পারি। দূরে বা কাছে যেতে প্রচুর ভাল এসি/নন এসি গাড়ি পাওয়া যায়। এখন তো লোকাল ট্রেনেও এসির ব্যবস্থা আছে। যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই সেখানেই ব্যবহার হোক। কার্বন তথা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে হলে সীমিত পরিসরে গাড়ি ব্যবহার করতে হবে। ৮। বাগান : গ্রামে যদি বাড়ি হয় প্রত্যেকের কিছু জায়গা জমি থাকে। শহরে বাড়ির পাশে কিছু ফাঁকা জমি না থাকলেও ছাদ থাকে। সেই জায়গায় গাছ লাগাতে পারি, মাটিতে বা টবে। গাছ থাকলে প্রজাপতি মৌমাছি নানা ধরনের পাখি আসে। প্রকৃতির কোলে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়। টাটকা শাক সবজি ফল পাওয়া যায়। আর গাছ আড়ালে দান করে অক্সিজেন, টেনে নেয় বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড। ৯। অপচয়: কত নির্দ্বিধায় আমরা জলের অপচয় করি। জলের কল খুলে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাস্তার কলে জল পড়েই যায়, আমরা দেখেও দেখিনা। অথচ দেশে ভূগর্ভস্থ জল নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ভূবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে যাচ্ছে, মানুষ শুনেও শুনছে না। দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে এখনই জলের হাহাকার। আরেক অপচয় বিদ্যুৎ। বিনা কারণে ঘরে ঘরে বাল্ব বা ফ্যান চলে। বারবার সুইচ অন অফ করতে আমাদের কষ্ট হয় অথবা অবহেলা - কে আর দেখছে, কি আর হবে....। একটু একটু করেই বড় কিছু হয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে সেটা বুঝতে হবে অন্যকে বুঝাতে হবে। জল বা বিদ্যুৎ - দুটোর ক্ষেত্রেই লাগে তেল/গ্যাস, যা নিঃস্বরণ করে গ্রীন হাউস গ্যাস, যা আমাদের সুন্দর পৃথিবীর মারণ বিষ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস সেই অনাগত বিপদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পৃথিবী যদি প্রানশূন্য হয়ে যায় Only one Earth এর Only one Homo Sapiens ও হারিয়ে যাবে, চাঁদে বা মঙ্গলে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখার কেউ থাকবে না। 🌳🌳🌳🌳🌳🌳

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

জল - জীবন

গরম কাঠ ফাটা শব্দকে গৌণ করে দিয়েছে। পাখি শব্দের মানে বোঝেনা, বোঝে জীবন জল জীবন ভেবে ঠোঁট ডুবিয়েছিল, ডুবে গেল নিজে। যেমন মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে পান্থশালা রেল স্টেশন বা তার ধার অনন্তকালের ঠিকানা ভাবে, থাকে নিজের শ্রম বিক্রি করে মানুষের কাছে সেই মানুষ যাঁরা রেলে চড়ে, যেখানে ধনীর পা পড়েনা, ধনীর পকেট উপচে কিছু পড়েনা। ধনীর স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সরকার নড়ে চড়ে হা করে আসে বুলডোজার, গিলে নেয় সব ছোটছোট দোকান, পথশিশুর পাঠশালা মাটির হাঁড়ি মায়ের স্নেহ, ঔদ্ধত্বে শাহেন শাহ। পাখি নিরন্তর হাবুডুবু খায়, যা ছিল জল জীবন।

সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

স্বর্গের খোঁজে

স্বর্গেই ছিলাম সুজলা সুফলা ভাটিয়ালি গান কিচির মিচির পাখির কলতান সকাল সন্ধ্যা ভাইয়ের স্নেহ বোনের আবদার মায়ের আঁচল হাওয়ায় হাওয়ায় ছিল মিলনের বহমান সুর শাসকের ঝটপটানি, উচ্চারিত হোল স্বর্গের লোভ আর অমনি সুজলা সুফলা স্বর্গ দোযখ হয়ে গেল স্বর্গের সিঁড়ি খুঁজতে পেরলাম তেপান্তরের মাঠ সুজলা সুফলা ভাটিয়ালি গান পাখির কলতান বুক ভরে শ্বাস ভাইয়ের বোনের এবং মায়ের আঁচল নতুন মাটিতে বীজ থেকে চারা গজায় নতুন ভাষায় প্রানান্তের আগে আবার শাসকের লোভের ডালি ফাটা ছাদে চুইয়ে পড়া বেহেশ্তের মায়াবী ঈশারা আর অমনি সুজলা সুফলা স্বর্গ নরক হয়ে যায় তেপান্তরের মাঠ আবার ডাকে থরথর পায়ে দিকশুন্য পথে দাঁড়াই ।।

বই পড়া নিয়ে দুকথা

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ছোটবেলায় শুনেছি। ছোটবেলা মেজবেলা হাত ধরাধরি করে চলেছি কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি। বড়বেলায়ও শুনছি ইসলাম শান্তির ধর্ম ...