Writing Blog of goutamaalee
Lifestyle of a refugee is always disaster. One of my hoby is writing. Sometime I write short stories and poems in Bengali. Most of the writings are reflection of refugee life. I welcome you to my writing world. Please inscribe a comment, if possible. Thank you. Writing blog, writing blog for money, writing blog on instagram, writing blog posts, writing blog site, writing blog job, blogger, blogger platform, best free blogger site, ব্লগার, বাংলা ব্লগ, গল্প, কবিতা, গল্প ও কবিতা, #goutamaalee .
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
Kobir golpo কবির কথা
কবির গল্প
সম্পাদক মশায় তাড়া দিচ্ছেন গল্প দিতে হবে। গল্প কি হাটে মাঠে জোটে যে চাইলেই ধরে দেব। হাটে মাঠে বলতে গিয়ে ভূষণ্ডীর মাঠের কথা মনে এলো। তাহলে একটা ভূতের গল্প লিখে ফেলি।
ভূতের কথায় জটার চেহারা ভেসে ওঠে। তার মাথায় জট ছিলনা তবে হঠাৎ দেখলে মনে হতো জট আছে। এক মাথা চুল। কখনও চিরুনি পড়েছে বলে মনে হয় না। ওকে ওই রকমই দেখতে অভ্যস্ত।
জটার স্কুল বয়স কিন্তু স্কুলে যায় না, কখনও যেতেও দেখিনি। ওর বাবা কাজ পেলে কাজ করে। কাজ পেল কিনা সেটা রাতে বোঝা যায়। একটু টলতে টলতে ঘরে ঢোকে। চিৎকার চেঁচামেচি করে না। ভারি শান্ত। জটার মা লোকের বাড়ি কাজ করে।
আমি স্কুল ছেড়ে কলেজে। বিশ্বকবির দু চারটে কবিতা পড়ে কবি হবার স্বপ্ন দেখছি। খাতায় লিখে ফেলছি মাঝে মাঝে। দু একটা পত্রিকায় পাঠাই, কেউ ছাপে না। অবশেষে নিজেই পত্রিকা প্রকাশ করলাম। দেয়াল পত্রিকা। পাড়ার দোকানের সামনে টাঙালাম যাতে লোকের চোখে পড়ে।
একদিন জটা এলো আমার কাছে। মিনমিন করে বললো - আমার কবিতা ছাপাবা ?
আমার অবাক হবার পালা - তুই কবিতা লিখিস?
সে বললো - নেবা ?
বললাম - এনেছিস ? দে আমাকে।
হাফ প্যান্টের পকেট থেকে ময়লা, ছেঁড়া ভাজ করা কাগজ দিল আমার কাছে। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।
বললাম - ঠিক আছে, আগে দেখি কি লিখেছিস।
পরের সংখ্যায় জটার কবিতা প্রকাশ হোল।
আমার মুখস্ত নেই সে লেখা তবে বিষয় মনে আছে। " আমি দুইবেলা খাতি পাইনা। খিদা পালি জল খাই। আমার এট্টা মাত্তর জামা। বাবা জামা কিনা দেয় না। "
তারপর সব সংখ্যায় তার লেখা থাকতো। জটা কবি হোল।
কলেজ শেষ করে একটা চাকরি পেলাম। নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেল।
বছর দশেক পর কবির সাথে দেখা। চুলের বাহার এরকমই। দাড়ি গোঁফ মুখে।
বললাম - কি করিস এখন ?
বললো - বিয়ে করেছি।
আমি বললাম - ভাল খবর। তা কাজ বাজ কি করিস ?
সে বললো - কিছু না।
অবাক হলাম - মানে ? আয় করিসনা তাহলে বিয়ে করলি কেন ?
অকপটে বললো - বারে, আমি কি করবো? বন্ধুরা জোর করে বন্ধ কারখানার কালী থানে নিয়ে বিয়ে দিয়ে দিল।
জোর করলো আর তুই বিয়ে করে নিলি ? খাওয়াবি কি ?
সে বললো - মেয়েটার মা নাই, বাবা আবার বিয়ে করিছে। খাতি দেয়না। খালি মারে। আর আমার বন্ধুরা বেশি ভাল না, মদ খায়, গাঁজা খায়। তাগে সাথে মিশে মিশে মেয়েটাও খারাপ হয়ে যাতিছেলো। আর জম্ম মিত্যু বিয়া সব ভগমানের ইচ্ছায় হয়। সিনি যদি বিয়ে দিতি পারেন তবে খাবারের জোগাড় সিনিই করবেন।
কবি এখন আর কবিতা লেখে না।
মাঝে মাঝে বাড়ি আসি। কবির সাথে খুব কম দেখা হয়। বয়সের থেকে বেশি বয়স্ক মনে হয় তাঁকে। মাথা ভর্তি কাঁচাপাকা চুল, মুখে দাড়ি। ওর বউকে প্রায়শই রাস্তায় দেখি। রোগা পাতলা। অগোছালো জীবন। জানিনা ওদের ভগমান কিভাবে রেখেছে।
একদিন রাতের খবরে কবিকে দেখলাম। অস্ত্র পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আপাতত জেল হাজত। পরের দিন বাংলার বহুল প্রচলিত দৈনিকে ছবিসহ খবর দেখলাম।
পাড়ার ওর বয়সী এক জনের কাছে খোঁজ নিলাম। আবার অবাক হলাম। অস্ত্র পাচার করা কবির পেশা। ছেলেটি আমাকে উদ্বিগ্ন দেখে আশ্বস্ত করলো
ধীর ভাবে বললো - আপনি চিন্তা করবেন না। খুব তাড়াতাড়ি ছাড়া পেয়ে যাবে। বড়জোর তিন চার মাস।
জানতে চাইলাম - কি ভাবে ছাড়া পাবে ? কে ওর জন্যে কোর্টে লড়বে?
ছেলেটি আমার জ্ঞান দেখে হাসলো - যাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেনে এবং যাদের কাছে বিক্রি করে তারাই ওর জামিনের ব্যবস্থা করবে, তারাই মামলা লড়বে। কারণ জটা খুব বিশ্বস্ত মানুষ।
আবার জিজ্ঞেস করলাম - সে যখন জেলে থাকে তার স্ত্রীর কিভাবে চলে ?
ছেলেটি বললো - দেখুন সমাজের অন্ধকার জগতের বাসিন্দারা যতই গুন্ডামি বা অসৎ কাজ করুক তারা অকৃতজ্ঞ নয়, বিশ্বস্ততার দাম দেয়। তাই সে যতদিন জেলে থাকবে তার পরিবার ঠিক বেঁচে থাকবে।
আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত হলাম। যদিও তার বিপদে আমি কখনও এগিয়ে যেতাম না। দায়সারা দায়িত্ব।
অবসর নেওয়ার পর বাড়িতে সময় কাটে। পাড়ার ভাল মন্দে কখনোই নিজেকে জড়াই নি, এখনো দূরত্ব রেখে চলি। কিন্তু আগের থেকে বেশি খবর পাই। মাঝে মাঝে কবির কথা মনে পড়ে। কিন্তু খোঁজ নেয়া হয় না।
আমাদের পাড়ায় অনেকগুলি কুকুর আছে। মনে হয় সব পাড়ায় ওদের দখলদারী। একটু ব্যতিক্রম আছে। আমার পাশের বাড়ির বাসিন্দা পথের কুকুরের শুভাকাঙ্ক্ষী। তার বাড়িতে চোদ্দটা কুকুর বাস করে। এছাড়া রাস্তার কুকুরদের খাবার যোগান দেয়। তাদের দেখভাল করার জন্য দুইজন মানুষ সবেতনে কাজ করে। শুনেছি কোন সংস্থা থেকে অনুদান পায়।
একদিন দেখা হলো কবির সাথে। পাশের বাড়ির গেটে দুটো ব্যাগ ঝুলিয়ে চলে যাচ্ছিল।
জিজ্ঞেস করলাম - কেমন আছিস ?
উত্তর - ভগমান যেমন রেখেছে।
ওর ভগমান কেমন রেখেছে সেটা জানতে পারলাম পাড়ার সেই ছেলেটার কাছে।
সেই ছেলেটা বললো - জটা এখন অস্ত্র পাচার কমিয়ে দিয়েছে কারণ বাজার মন্দা।
প্রশ্ন করলাম - তাহলে ওর সংসার চলে কিকরে?
উত্তর পেলাম - বাড়ির আশে পাশে কয়েকটা কুকুর আছে। আপনার পাশের বাড়ির থেকে দুইবেলা কুকুরদের জন্য খাবার আনে। সেই খাবারে স্বামী স্ত্রীর খাবারের জোগাড় হয়ে যায়।
কবির ভগমানকে আমি মনে মনে কৃতজ্ঞতা জানাই। এক মাথা পাকা চুল ও মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে মাথা নিচু করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ভূষণ্ডির মাঠে হেঁটে চলে ভূত। তাঁর জীবনে কবিতা ফুরিয়ে গেছে।
১৫/০৮/২০২৬
বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্ষা
শান্ত সকাল। কি সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে। অঝরে।
যারা কুম্ভকর্ণ কে হিংসে করে
তারা এখন আরাম ঘুমে। গরমের উসখুস নেই।
নেই ঠান্ডার দাঁত চাপা শাসন।
যারা কাজের চাপে চাপা পড়ে আছে,
জল ছপছপ পায়ে হেঁটে চলেছে।
এই ভোর তো পাখিদের, কিচিরমিচির ডাক নেই।
বহুকাল শোনেনি এমন নির্ঝরের গান
তাই বুঝি আত্মমগ্ন তারা।
লতা পাতা গাছেরা আনন্দে উচ্ছ্বল আজ
অনাবিল আনন্দে আত্মহারা, ছোটবেলা জেগেছে
ঘাসডোবা জলে দলবেঁধে হুল্লোড়, কোন বারণ নেই
ফুলেরা ফোটাজলের ঝুমকো পড়বে বলে অপেক্ষায়।
কালিদাস হলে একটা চিঠি পাঠাতাম
জুলেখা সুলেখা বনলতাদের কাছে
এখনও মনের গহনে গহনে আছে ওদের লুকোচুরি
এখনও বৃষ্টির স্বর ভিজে যায় কান্নায়
এখনও যক্ষ সীমানা পেরোবার পদচারণা করে।
৪/৮/২৬ সকাল
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
তসলিমা নাসরিন কি এক বিপদের নাম ?
এক অসাম্প্রদায়িক তথা নাস্তিক মানুষ বিতাড়িত হোল সাম্যবাদী তথা কমিউনিস্ট সরকার দ্বারা।
এক সাম্প্রদায়িক সরকার সেই অসাম্প্রদায়িক মানুষটিকে আবার রাজ্যে ফিরিয়ে আনলো।
তবে কি সাম্যবাদী সরকারই আসলে সাম্প্রদায়িক?
আর সাম্প্রদায়িক সরকার আসলে সাম্যবাদী ?
তখন যা চেয়েছিলাম তা পাইনি।
এখন যা ভাবিনি তাই পাচ্ছি !
ঘটনার মূলে ছিল তসলিমা নাসরিনের উপন্যাস, লজ্জা। লজ্জা - বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এক বাস্তবতা। লেখক তাঁর দেশের কথা, সমাজের কথা লিখেছেন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে, অন্য নাগরিকের উপর সংগঠিত অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন, দেশের মানুষকে মানবতার বন্ধনের কথা বলেছেন। অন্য দেশের মানুষ সেটাকে কিভাবে দেখবে তা লেখকের বিষয় নয়। সাম্প্রদায়িক শক্তি কোথা থেকে কিভাবে তার রসদ জোগাড় করবে সেটা লেখকের কর্তব্যে বাধা হতে পারে না।
লজ্জার জন্য তিনি স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, তাতে স্বদেশের লজ্জা কমেনি বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে - যা আজ মহীরূহ হয়ে দেখা দিয়েছে। সেই কুড়ি বছর আগে যদি সেদেশের সরকার বিষয়টিকে দেশের লজ্জা হিসেবে দেখতো, যথাযথ ব্যবস্থা নিত তবে আজ সেদেশের নেত্রীকে অন্যদেশে পালাতে হতো না।
বাংলার কমিউনিস্ট সরকার লজ্জাকে যদি সাম্প্রদায়িক মোড়কে না দেখতো, তবে বিভেদকামীদের এতো বাড়বাড়ন্ত হয়তো হতো না। জনপ্রিয়তার সস্তা তাস খেলতে গিয়ে তারাও আজ গাড্ডায় পড়েছে। সেখান থেকে আর উঠে দাঁড়াতে পারছে না।
তৎকালীন সাম্যবাদী সরকার লজ্জার মধ্যে বাস্তবতা খুঁজে পায়নি। দেশভাগে সংখ্যালঘু হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রিস্টানদের যন্ত্রণা তাঁরা কখনোই অনুধাবন করতে চায়নি, করতে পারেনি। যদি অনুধাবন করতে বা ভবিষ্যত্ দেখতে পারতো তবে বাংলাভাগের সহায়ক হতো না। তাঁরা বাংলার কথা ভাবতো না, বাঙালি সত্ত্বার কথা ভাবতনা। ক্ষমতার লিকলিকে লালসায় জনসংঘের শ্যামাপ্রসাদ থেকে কোন অংশে কম ছিলনা। সমগ্র তথা অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম ও তপশীলিদের টপকে তাঁরা অর্থাৎ তথাকথিত উচ্চজাতির সমাজপতিরা কখনোই বাংলার শাসক হতে পারতনা। সেই ভাবনায় কংগ্রেস - জনসংঘ - কমিউনিস্টরা এক সারিতে ছিল।
একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারের শরৎ চন্দ্র বসু।
শিকড়ছেঁড়া মানুষের যন্ত্রণা বুঝতোনা বলেই মরিচঝাপির নৃশংস পরিণতি ঘটাতে পেরেছিল। তাঁদের লজ্জার ইতিহাস বাঙালী জাতির জীবনে এক চরম পাওনা।
আমি অবাক হয়েছিলাম তসলিমা নাসরিনকে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। মৃত সন্তানের পাশে বসে মা যেমন ভাবে - এই বুঝি আমার বাছা চোখ মেলে তাকাবে - তেমনি আমিও ভাবতাম প্রিয় বামপন্থী সরকার তসলিমাকে ঘরে ফিরিয়ে আনবে। সেটা আর কখনও ঘটেনি।
মমতার প্রতি আমার কোন প্রত্যাশা ছিলনা।
তবে প্রশ্ন জাগে - বিজেপি সরকার কেন ফিরিয়ে আনছে তসলিমাকে ? বাংলার অসাম্প্রদায়িক ভাবনা তছনছ করে সাম্প্রদায়িক আগুন জ্বালাতে সে কি ক্যাটালিস্ট হিসাবে কাজ করবে ? যে উগ্রবাদী মুসলিমরা তাঁর মাথার দাম ধার্য করেছিল, তারা কি চুপচাপ বসে থাকবে? সরকার সেই বিভেদ কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর কোন উদ্দেশ্য সাধন করবে ?
রাজনীতির জটিল অংক আমি বুঝিনা তবে আশঙ্কা হয়।
তবে একজন বাংলাভাষী লেখক আবার মাতৃভাষায় স্বাদ নেবে সেটা ভেবে আমি খুশি। বাংলা হোক বাঙালির পীঠস্থান।
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
মেঘনাদ
https://www.facebook.com/share/p/1CbqJuT21U/
মহাকাব্য রামায়ণ বা মহাভারত কি আড়াই ঘণ্টার ক্যাপসুলে পোরা সম্ভব? তেমনি একটা চেষ্টা করা হয়েছে বিজ্ঞানী মেঘনাদের মহাকাব্যিক জীবনকে আড়াই ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে নাটক হিসেবে মঞ্চস্থ করার। বিজ্ঞান ও রাজনীতির মহারথীদের সমাবেশ নাটকের চরিত্রে। বিজ্ঞানী - রাজনীতিবিদ মেঘনাদকে কেন্দ্র করে যাবতীয় কার্যক্রম। ভারতীয় ধর্মীয় সমাজনীতির সমাজবিভাজনের নোংরা পরিবেশে কিভাবে একজন মহান মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত লড়তে লড়তে নিঃস্ব হয়ে যান - সেই আখ্যান।
মেঘনাদ নাটক তৈরিতে জড়িয়ে আছেন একাধিক বিজ্ঞানী, একজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে কাহিনী বানাতে যা ছিল অপরিহার্য।
কাহিনীর বিন্যাস সময় সারণী অনুসারে হয়নি। শুরু প্রায় শেষ জীবনে, পরক্ষণেই কৈশোরে। আগু পিছু করে নাট্যকার সাজিয়েছেন যা চিন্তার পরিসর সম্বৃদ্ধ করে। স্কুল জীবনে যে কারণে তিনি বঞ্চনার সনদ হিসেবে রাজটিকিট পান - সেই বঞ্চনা সেই রাজ টিকিট সারা জীবন ধরেই পেতে থাকেন। সেই রাজ টিকিট মেঘনাদকে নোবেল পুরস্কার পেতে তীব্র বাঁধার সৃষ্টি করে।
পণ্ডিত জহরলাল নেহেরু, হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা, শান্তি স্বরূপ ভাটনাগর, সি ভি রমন, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ড. মেঘনাদ সাহা- সব ব্যক্তিত্ব এখন ইতিহাস, তবু এটা ঐতিহাসিক নাটক নয় কারণ এই নাটকের একটা চরিত্র এখনো জীবিত। তিনি মেঘনাদের ছোট কন্যা ড.চিত্রা রায় সাহা।
এই নাটক আমরা কেন দেখবো ?
আমাদের বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। বই পড়ার আগে সংগ্রহ করতে হবে। সে সময় কোথায় ? তাই আড়াই ঘণ্টার ক্যাপসুলে গিলে ফেলা সহজ। অল্পেই পেয়ে যাব মহাকাব্যিক জীবনের স্বাদ। প্রয়োজনে তারপর তথ্য যাচাই করা যাবে।
তথ্য যাচাই - এই জন্যে লিখলাম যে বিরতির সময় গুঞ্জন শোনা গেছে, এসব কি সত্যি ?
আরও একটা কারণে এই নাটক তাড়াতাড়ি দেখতে বলবো, দেরি করলে দেখার সুযোগ না ও পেতে পারেন। বর্তমান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কুদৃষ্টিতে পড়ার সম্ভাবনা আছে।
নাটক প্রযোজনা করেছে - অশোকনাগর নাট্য আনন। নির্দেশনা ও নামভূমিকায় চন্দন সেন।
পরবর্তী নাটক মঞ্চস্থ হবে ৬ জুলাই একাডেমিতে। খোঁজ নিতে পারেন Thirdbell.in
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
বই পড়া নিয়ে দুকথা
ইসলাম শান্তির ধর্ম। ছোটবেলায় শুনেছি। ছোটবেলা মেজবেলা হাত ধরাধরি করে চলেছি কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি। বড়বেলায়ও শুনছি ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু যা দেখছি তাতে মিলছে না। কেন মিলছেনা ? ভাসা ভাসা বুদ্ধিজীবীরা যা বলেন তাতে মন তৃপ্তি পায়না। যেমন আরএসএসকে বাইরে থেকে যা বুঝতে পারি তা ওই সংগঠনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ( Partha chatterjee) বই যা বোঝায় তা আলাদা। তেমনি ইসলাম নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা কি শেখায় তা আমরা বুঝতে পারি না কারণ ভিতরের কথা বলার মানুষ পাইনা।
" নাস্তিক ইমামের হজ্ব" - বই সেই অনালোকিত মাদ্রাসা শিক্ষা তথা ইসলামের স্বরূপ চিনতে সাহায্য করে। ধর্ম মানুষের প্রাণের আরাম। মানুষ সে আরাম যেখানে পাবে সেই ধর্মে বিশ্বাস রাখবে। কিন্তু ইসলামে সেই বিশ্বাসের স্বাধীনতা নেই। ইচ্ছে করলে ইসলাম ত্যাগ করা যাবেনা। নবীর নির্দেশ, ইসলাম যে ত্যাগ করবে বা অবিশ্বাসী হবে তার একটাই পরিণতি - মৃত্যু। একটা উত্তর এই পড়া থেকে জানলাম, ইসলাম বিশ্বাসী মানুষের প্রথম পরিচয় কেন মুসলমান, এমনকি সে যদি কমিউনিস্টও হয়।
মক্কা মদিনা যাওয়ার স্বপ্ন কোন বিধর্মী দেখতে পারেনা, সে অধিকার সে রাষ্ট্র দেয়না। সেখানে নির্মোহ বর্ণনা আছে এই বইটিতে। নিখেছেন একজন বাংলাদেশের ইমাম - মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। ইসলাম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়েছেন এবং যথারীতি প্রাণের ভয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন। বইয়ের দাম ২৫০/- টাকা। E-mail: aamrasachetan@gmail.com
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
আমাদের পরিবেশ: আমাদের করণীয়
আমরা যারা ধার্মিক, ধর্মগ্রন্থ ( গীতা, বাইবেল, কোরআন...) একবার পড়ে পাশে সরিয়ে রাখি না। বারবার পড়ি, মুখস্ত হয়ে গেলেও পড়ি। তেমনি পরিবেশের কথা সচেতন মানুষেরা বারবার বলেন। কারো কাছে একঘেয়েমি মনে হয়, তবুও বলেন। কারণ সুস্থ পৃথিবীর জন্যে এটা একটা ধর্মপাঠ।
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সেই ১৯৭৩ সালে সুজারল্যান্ডে শ্লোগান উঠেছিল - Only one Earth. প্রাণময় সেই একমাত্র পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে স্বাভাবিক পরিবেশে রাখতে হবে, নাহলে সেও একদিন প্রাণহীন হয়ে যাবে। আর সেই পৃথিবীর ভাগ্য বিধাতা কোটি কোটি প্রাণীর মধ্যে একটি মাত্র প্রাণী - সে মানুষ(homo sapiens)। সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হবে সবচেয়ে সুন্দর পৃথিবীর হত্যাকারী!
এই দিন বছরে একবার আসে। কিন্তু একবার করে বা বকে পরিবেশ সচেতন মানুষের কাজ শেষ হয়না। প্রতিনিয়ত সুস্থ থাকার জন্য আমরা যে কাজগুলি করি, সুস্থ পরিবেশের জন্যেও তেমনি কিছু কাজ আমাদের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
১। গাছ:
সুযোগ পেলে গাছ লাগাতে হবে। নিজের জমিতে বা পতিত জমিতে। আমরা বাড়িতে বা পথে যেতে যেতে নানা ফল খাই। একটু সচেতন ভাবে সেই ফলের বীজ ফাঁকা জায়গায় ফেলতে হবে। হয়তো সবার অজান্তে সেই ফল থেকে গাছ হবে, পৃথিবী একটু সবুজ হবে।
২। পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে :
যাঁদের মোটরসাইকেল আছে তাঁরা একদম হাটায় অভ্যস্ত নয়। একটু দূরে হলে তো একদম খোড়া। এই অভ্যাস পাল্টাতে হবে নিজে ভাল থাকার জন্য এবং পরিবেশ ভাল রাখার জন্য। কাছেপিঠে হলে পায়ে হেঁটে যান। একটু দূরে হলে সাইকেল চালিয়ে যান। দুই বা চার চাকার গ্যাস চালিত বাহন পরিহার করুন। এটা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
৩। খাবার :
অতিরিক্ত খাবার ফেলে দেবেন না। খাবার পঁচে পরিবেশ দূষণ বাড়ায়। অভাবী মানুষের অভাব নেই আমাদের দেশে, তাঁদের দিন। তাঁরা উপকৃত হবে আবার পরিবেশও সুস্থ থাকবে।
৪। জৈব সার :
বাতিল শাকসব্জি লতা পাতা বাড়িতে বা জমিতে গর্ত করে ফেলুন। গর্তের মুখ চাপা দিয়ে রাখুন যাতে দূষণ না হয়। ইকোসিস্টেম অনুসারে এগুলি সারে রূপান্তরিত হবে যা মাটিকে উর্বর করবে।
৫। কীটনাশক :
চাষে, গাছে কীটনাশক ব্যবহার করার আগে ভাবুন। কীটনাশক শুধু পোকামাকড় মারেনা পাখী ও অন্যান্য প্রাণী মেরে ফেলে। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র নষ্ট করে দেয় যা পরিবেশের ভারসাম্য তথা সুস্থতা নষ্ট করে। পরিবেশ বান্ধব ওষুধ ব্যবহার করুন।
৬। প্লাস্টিক :
সচেতন ভাবে প্লাস্টিকের দ্রব্য যেমন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কাগজ, কাপড় বা বাঁশের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করা যায় যা পচনশীল।
৭। গাড়ি :
জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে গাড়ির ব্যবহারও তত বেড়েছে। গাড়ি প্রয়োজনকে ছাড়িয়ে আয়েশের বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক পরিবারে একাধিক গাড়ি এক দেখন দারি হয়ে গেছে। আমরা ভুলে যাই গাড়িতে তেলের ব্যবহার সর্বাধিক, দূষণ ছড়ায়ও সর্বাধিক। অথচ একটু সচেতন হলে পরিবেশের সহায়ক হতে পারি। দূরে বা কাছে যেতে প্রচুর ভাল এসি/নন এসি গাড়ি পাওয়া যায়। এখন তো লোকাল ট্রেনেও এসির ব্যবস্থা আছে। যেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই সেখানেই ব্যবহার হোক। কার্বন তথা গ্রীন হাউস গ্যাস কমাতে হলে সীমিত পরিসরে গাড়ি ব্যবহার করতে হবে।
৮। বাগান :
গ্রামে যদি বাড়ি হয় প্রত্যেকের কিছু জায়গা জমি থাকে। শহরে বাড়ির পাশে কিছু ফাঁকা জমি না থাকলেও ছাদ থাকে। সেই জায়গায় গাছ লাগাতে পারি, মাটিতে বা টবে। গাছ থাকলে প্রজাপতি মৌমাছি নানা ধরনের পাখি আসে। প্রকৃতির কোলে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়। টাটকা শাক সবজি ফল পাওয়া যায়। আর গাছ আড়ালে দান করে অক্সিজেন, টেনে নেয় বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড।
৯। অপচয়:
কত নির্দ্বিধায় আমরা জলের অপচয় করি। জলের কল খুলে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাস্তার কলে জল পড়েই যায়, আমরা দেখেও দেখিনা। অথচ দেশে ভূগর্ভস্থ জল নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ভূবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে যাচ্ছে, মানুষ শুনেও শুনছে না। দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে এখনই জলের হাহাকার।
আরেক অপচয় বিদ্যুৎ। বিনা কারণে ঘরে ঘরে বাল্ব বা ফ্যান চলে। বারবার সুইচ অন অফ করতে আমাদের কষ্ট হয় অথবা অবহেলা - কে আর দেখছে, কি আর হবে....। একটু একটু করেই বড় কিছু হয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে সেটা বুঝতে হবে অন্যকে বুঝাতে হবে। জল বা বিদ্যুৎ - দুটোর ক্ষেত্রেই লাগে তেল/গ্যাস, যা নিঃস্বরণ করে গ্রীন হাউস গ্যাস, যা আমাদের সুন্দর পৃথিবীর মারণ বিষ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস সেই অনাগত বিপদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পৃথিবী যদি প্রানশূন্য হয়ে যায় Only one Earth এর Only one Homo Sapiens ও হারিয়ে যাবে, চাঁদে বা মঙ্গলে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখার কেউ থাকবে না।
🌳🌳🌳🌳🌳🌳
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
জল - জীবন
গরম কাঠ ফাটা শব্দকে গৌণ করে দিয়েছে।
পাখি শব্দের মানে বোঝেনা, বোঝে জীবন
জল জীবন ভেবে ঠোঁট ডুবিয়েছিল, ডুবে গেল নিজে।
যেমন মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে
পান্থশালা রেল স্টেশন বা তার ধার
অনন্তকালের ঠিকানা ভাবে, থাকে
নিজের শ্রম বিক্রি করে মানুষের কাছে
সেই মানুষ যাঁরা রেলে চড়ে, যেখানে
ধনীর পা পড়েনা, ধনীর পকেট উপচে কিছু পড়েনা।
ধনীর স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য সরকার নড়ে চড়ে
হা করে আসে বুলডোজার, গিলে নেয় সব
ছোটছোট দোকান, পথশিশুর পাঠশালা
মাটির হাঁড়ি মায়ের স্নেহ, ঔদ্ধত্বে শাহেন শাহ।
পাখি নিরন্তর হাবুডুবু খায়, যা ছিল জল জীবন।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
Kobir golpo কবির কথা
কবির গল্প সম্পাদক মশায় তাড়া দিচ্ছেন গল্প দিতে হবে। গল্প কি হাটে মাঠে জোটে যে চাইলেই ধরে দেব। হাটে মাঠে বলতে গিয়ে ভূষণ্ডীর মাঠের কথা মন...
-
রোদ যখন উগ্র হয় মাটি ফাটে পুকুর শুকায়, গাছেরা দুর্বল হতে থাকে তবুও শিকড় খোঁজে অতল গভীরতা এই সত্য কোন সীমানা মানে না। প্রতিটি দেশে সংখ্য...
-
( In Bengali and English) রাজুদা, কথা রাখলেন না কেন ? গৌতম আলী আচ্ছা রাজুদা, এটা কি আপনি ঠিক করলেন ? কথা দিয়ে কথা রাখলেন না ? এটা তো আপ...
-
আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন মানুষ হতে কি শিখবে, কেমন মানুষ হবে ? আপনি যখন নিড়ানি নিয়ে আসল বাঁচাতে ব্যস্ত তখন আপনার সন্তান ব্যস্ত আগাছ...




