শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

মিলেমিশে

বাংলায় বিজেপিকে অনেকেই সমর্থন করেন। তাঁরা মনে করেন একমাত্র এই দলই হিন্দুত্ব রক্ষার কান্ডারী। সে ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাও হিন্দুত্বের গরিমা লাভ করে। নিম্নবর্গীয় মানুষ নিজেদের হিন্দু ভাবেন যদিও তথাকথিত হিন্দুরা তাঁদের হিন্দু ভাবেনা, ঘৃণা করে। তাই নিম্নবর্গীয় অনেকেই সে দলের প্রার্থী। এটা নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। বাইরের খোলস ছেড়ে এই নিম্নবর্গীয় মানুষেরা যদি দলটির মূল ভাবনায় যায় তবে দেখতে পাবে সেখানে গণতন্ত্র নেই, আছে মনুতন্ত্র। ঘৃণার আবর্তে মানুষকে কেবল ভাগ করা। ব্রাহ্মণদের সেবাদাস বাকিরা - কেউ কম কেউ বেশি। আপনার জাতিগত যে অবস্থান, তাতে সে দল কি আপনাকে মানুষ ভাবে ? এমনকি আপনি যদি শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ না হয়ে মানুষ হন - তাহলে ব্রাহ্মণ্যবাদের এই ঘৃণাতত্ত্ব দেখলে আপনিও আতকে উঠবেন। এমন মানবতা বিরোধী দলকে আপনি কেন সমর্থন করবেন ? আমাদের দেশ বহুত্ববাদী, বিশ্বের কাছে সে জন্যে আমরা গর্বিত। কবির কথায় - শক হুন পাঠান মোগল যেখানে একদেহে হয় লীন। আসুন আমরা মিলেমিশে থাকি, যাঁরা বিভেদের কথা বলে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করি।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ডিটেক্ট ডিলিট ডিপোর্ট

দেশ শাসনের ভাগ্য নির্ধারণ করে যাঁরা তাঁরা দেশ চালায় না। প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশের নিম্নবর্গীয় মানুষ (SC/ST/OBC) এবং সংখ্যালঘুরা আর দেশ চালায় ভোদ্রলোকশ্রেণী। বর্তমান শাসকদল চাইছে বর্তমান সংবিধান তছনছ করে গণতন্ত্রহীন একদলীয় (স্মরণীয় শ্লোগান - একদেশ, এক ভাষা, এক নেতা! রেল স্টেশনে এক পণ্য দোকান) শাসন ব্যবস্থা চালু করা। অথচ যাঁদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গণতন্ত্রহীন সাম্প্রদায়িক ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে - সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে তারাই অর্থাৎ sc/st/obc রা। সেই ডাল তাঁরা কাটছে যে ডাল তাঁদের আশ্রয়। এবারের রাজ্য ভোটের কেন্দ্রীয় শ্লোগান - ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট। ইতিমধ্যে রাজ্যে ডিটেক্ট করা হয়ে গেছে (৯১লক্ষ)। চলছে ডিলিট পর্ব। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ডিপোর্ট (দেশ থেকে তাড়াবে!) করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে । এই প্রক্রিয়ায় সব চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে sc st obc রা এবং মুসলমানরা। অনেকের কাছে উদ্বাস্তু হচ্ছে উদ্বৃত্ত। কিন্তু আদি বাসিন্দা যাঁরা অমিত শাহ্ দের পূর্বপুরুষদের থেকে হাজার হাজার বছর আগে এই ভূমিতে আছে তারাও আজ বেনগরিক হওয়ার পথে। যেমনটা ইতিপূর্বে ঘটেছে আসামে। বিজেপি মূলত অবাঙালি তথা হিন্দি বলয়ের দল। নির্বাচনে কাপাচ্ছে দাপাচ্ছে সেই হিন্দি ভাষীরা। এই অবাঙালি আগ্রাসন থেকে বাংলাকে রক্ষা করতে সমস্ত বাঙালির একজোট হওয়ার দরকার। কিন্তু বাংলার ভদ্রলোকশ্রেণি ধরি মাছ না ছুঁই পানি করেই থাকতে অভ্যস্ত এবং থাকবে। যদিও উচ্চ বর্গীয় তথা ভদ্রলোকশ্রেণীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা আছে, রণ নীতিতে তাঁরা সব চাইতে দড় - কিন্তু সাধারণের প্রত্যাশার প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা অতি সীমিত। সুতরাং মূল কাজ করতে হবে বাকিদের। বিজেপি ভাঙ্গন ধরাতে চায় মানুষের মধ্যে। মানুষের মধ্যে ভাঙ্গন ধরলে দেশের ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হবার সম্ভাবনা বাড়বে। সুতরাং সংবিধান রক্ষা করতে নিম্নবর্গীয় মানুষ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একজোট হয়ে detect delete deport মিশনকে প্রতিরোধ করতে বিজেপিকে একটা ভোট ও দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

Chikitsa

কর্কট রোগ হলে বড় বিপদ চিকিৎসায় ভাল নাহলে বিয়োগান্ত নাটক পৃথিবীর সব সুন্দর ছেড়ে চলে যেতে হয় ভোগ শোক আশা বাসা সব পড়ে থাকে কর্কট রোগের চিকিৎসা বেশ কঠিন নির্দয় নির্মম বাঁচতে হলে প্রথমে মারতে হয় প্রতিটি কোষ কোষের প্রদাহ কেমোর সুতীব্র শাসনে তারপর ব্যবচ্ছেদ। যে অঙ্গকে ঈশ্বরের দান ভেবে চরাচর উথাল পাথাল, ঈশ্বরকে বুড়ো আঙ্গুল। তারপরেও কর্কটের গঙ্গাপ্রাপ্তি না হলে গঙ্গা বিসর্জন দিতে হয় জীবন। আমার দেশ আজ কর্কট রোগে আক্রান্ত সাম্প্রদায়িক বিষ নীল করেছে সর্ব দেহ। কেমো দিতে হবে সুতীব্র ক্ষিপ্রতায় অথবা ব্যবচ্ছেদ।

বই পড়া নিয়ে দুকথা

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ছোটবেলায় শুনেছি। ছোটবেলা মেজবেলা হাত ধরাধরি করে চলেছি কোন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি। বড়বেলায়ও শুনছি ইসলাম শান্তির ধর্ম ...