শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আমার হিন্দুত্ব

ঠিক এই কথাই ভাবছিলাম আমি তো হিন্দু হিন্দুত্বের সাথে আপোস করে কিছুই করবো না আমার ঠাকুর্দা আপোস করেনি যখন শাসকের ভয়ে গ্রামকে গ্রাম উজাড় হয়ে যাচ্ছিল নত মস্তকে ঢুকছিল মসজিদে মসজিদে ঠাকুর্দা হাতের ঢাল সরকির বিশ্বাস হারায়নি হিন্দুত্বের গরিমায় লড়েছে আমার বাবা ইংরেজ শাসনের কূট চক্র উপেক্ষা করে গীর্জায় ঢোকেনি লাল সাদা নিশান আর ডংকার উদ্দামে হিন্দুত্বের জয়গান গেয়েছে আমি দেশভাগের প্রবল স্রোতে বাপ ঠাকুর্দার ভিটে হেলায় ত্যাগ করেছি, ভেসে ভেসে চলেছি হেথা হোথা সব ছেড়েছি , হিন্দুত্ব ছাড়িনি। হিন্দু ধর্মের পাজিপুঁথি আমাকে হিন্দু বলেনা কিন্তু আমি বিশ্বাস করি হিন্দুত্বে উচ্চ বর্ণের মানুষ আমাকে ছোট জাত বলে কিন্তু আমি বিশ্বাস করি হিন্দুত্বে ব্রাহ্মণ আমাকে মন্দিরে ঢুকতে দেয়না আমার ছায়া মাড়ায় না, আমার ছোঁয়া খায়না আমার ঘরে মেয়ে দেয়না, আমার ঘরের মেয়ে নেয়না আমার সমাজে শিক্ষা দেয়না না দেয়ার পাহাড় হিমালয়কে হার মানায় তবু আমি পরকালের স্বপ্নে বিভোর থাকি আমার ভোটে আমাকে বেনাগরিক করার জাদুমন্ত্র আমি বুঝিনা, বুঝতে চাইনা ব্রাহ্মণের পদসেবায় নত মস্তকে হিন্দুত্বের প্রসাদ হিন্দুত্বের অবসাদ আকন্ঠ পান করি।

রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তারার নিশানা

বাংলার মাঝে এক সীমানা আছে দেখা যায় বোঝা যায় সবাই বাঙ্গালী তবু যাঁরা পুব আকাশের তারা ফেলে সীমানা পেরিয়ে পশ্চিমে আসে তাঁরা আর বাঙ্গালী নামে অভিভাষণ হয় না উদ্বাস্তু বছর বছর পিছনে হারায় শতাব্দী হাতে হাতে লুফোলুফি করে তবু তাঁরা উদ্বাস্তু উদভ্রান্ত হয়ে গঙ্গায় ডুব দেয় বাঙ্গালী হবার বাসনায় নতুন জামা গায়ে দিতেই ভানুমতির খেল জামা আর নতুন থাকেনা অবিকল যে পরিধান ছিল ঠাকুর্দার উদ্বাস্তু অবিকল যে পরিধান ছিল বাবার উদ্বাস্তু অবিকল নাতির গায়ে লেপটে থাকে উদ্বাস্তু পশ্চিম আকাশে সূর্য ডোবা লাল আবির দেখে মুক্তির নেশায় তাঁরা ছোটে ভুলে যায় পুব আকাশের তারার নিশানা। ১৫/০২/২৬

সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মঙ্গলজড়ি পাখিরালয় ৩

ইহারা এখানেই থাকে , থাকে কিছুকাল কেউ কেউ আসে দূরদেশ থেকে কেউ কেউ এখানেই থাকে বার মাস ওই যে দূরে পাহাড় , পাহাড়ের ঘন গাছ গাছালি ওখানে ওদের সংসার আরও সংসার আছে যারা তীর ধনুকের জীবন নিয়ে নিত্য লড়ে মানুষ শিকারির সাথে ইহারা আসে দূরদেশ থেকে দল বেঁধে বেঁধে নীল আকাশে সারি সারি মালার মতন ওড়ে হাজার হাজার মাইল ওড়ে উষ্ণ হাওয়ার নিশানায় তারপর বিছানা পাতে জলাশয়, গাছের ডালে কেন আসে কোন সুখের তাড়নায় ছাড়ে ঘর? মানুষও ঘর ছাড়ে যুদ্ধের দামামা, ধর্মের জিগির, ক্ষমতার লোফালুফি মানুষও ঘর ছাড়ে জীবনের ওমে তৈরি করা বাপ ঠাকুর্দার প্রাণের আবাস , সব ছাড়ে জীবনের মোহে, সে মোহ ফিরায় কি তাহাদের ঘরে? ইহারা ঘর ছাড়ে শীতের তাণ্ডবে সাদা পুরু বরফের নিচে চাপা পড়ে জীবনের রসদ লতা পাতা পোকা মাকড় সব সব কিছু ডানায় ডানায় সঞ্চিত রসদ নিয়ে পাখা মেলে ওরা উষ্ণতার খোঁজে ছোটে পৃথিবীর কোনায় কোনায় ওদের তো বিদেশ নেই, পৃথিবী ওদের ঘর ওদের তো ধর্মের চড়াই উৎরাই নেই নেই ক্ষমতার একরোখা দ্বেষ বুকভরা ভালবাসা এবং বাঁচার তাগিদ ইহাদের পৌঁছে দেয় স্বপ্নের দোর সব স্বপ্ন মেটেনা সবার যেমন ঘর ছাড়া দেশ ছাড়া মানুষ হারিয়ে যায় পথে যেতে যেতে বিকিয়ে যায় মাংসাশী হাড় খাবার হয় টেবিলে টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় জঙ্গলে মঙ্গলে ভাষা সংস্কৃতি জীর্ণ হতে হতে খসে পড়ে ধীরে যেমন ইহারা লোভী মানুষের শিকার হয় রক্তাক্ত পালক ছড়িয়ে পড়ে ধূলায় মানুষের খাবার টেবিল উপচায় উল্লাসে ইহারা এখানে (মঙ্গলজরিতে) আছে সুখে মানুষ এখানে আসে ভালবেসে ঘোরে ফেরে দেখে সকাল সন্ধ্যায় শীতের আমেজে তারপর ঘরে ফেরে । ইহারাও ফিরবে একদিন উষ্ণতার শিরা বেয়ে ফিরে যাবে ঘরে হাজার হাজার মাইল উড়ে যাবে দল বেঁধে। মানুষ যদি হতো পাখিদের মন এরাও ফিরত ঘরে ইহাদের মতন।

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

একা

একা ছিলাম সবাই হা ডু ডু খেলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল বাবুই পাখিরা কিচির মিচির বাসায় ফিরছিল সূর্য ডুবে বলে ভিড় জমাচ্ছিল পশ্চিম বিলে বকেরা ভানুমতির মালা হয়ে দুলছিল আকাশে একা আছি শৈশবের ক্ষত নিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের নিঝুম বারান্দায়। ৩১.০১.২০২৬

কে শেখাবে ০৩.০৩.২৬

আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন মানুষ হতে কি শিখবে, কেমন মানুষ হবে ? আপনি যখন নিড়ানি নিয়ে আসল বাঁচাতে ব্যস্ত তখন আপনার সন্তান ব্যস্ত আগাছ...